Breaking News
Home / আলোচিত খবর / অভাব নিয়েই বেঁচে আছেন মীরা ও তার মা চিরই শব্দকর ।। ভাগ্যে জোটেনি সরকারী ভাতা !

অভাব নিয়েই বেঁচে আছেন মীরা ও তার মা চিরই শব্দকর ।। ভাগ্যে জোটেনি সরকারী ভাতা !

কমলগঞ্জ বার্তা প্রতিবেদক :: নছরতপুর থেকে ঘুরে এসে ।।
কয়েক দিন আগেই নাকি পেরিয়েছে তার শত বছর। বার্ধক্যের যন্ত্রনা এই শেষ বয়সেও তার পিছু ছাড়ছে না। শব্দকরদের চিরচরিত সেই ভিক্ষাবৃত্তির প্রতি তার বরাবরই ছিল অনীহা। দু-মুঠো ভাতের জন্য কাজের সন্ধানে এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরে অন্যের কাজ করে চলতো তার জীবিকা নির্বাহ। বৃদ্ধ স্বামী আর বিধবা কন্যা সন্তানকে নিয়ে কোনমতে চলতো তার সংসার। কোন কিছুতেই তার ছিলনা পিছুটান। কিন্তু গত ২ বছর ধরে তিনি আর কাজে যেতে পারছেন না। চলা ফেরায় শারিরীক অক্ষমতা তাকে আজ গৃহবন্দী করে ফেলেছে। কমলগঞ্জের অতশীপর বয়োবৃদ্ধ এই মহিলার নাম চিরই শব্দকর। জীবন সায়াহ্নে বিধবা মেয়ে মীরা শব্দকরের আশ্রয়ে তিনি এখন তিনি প্রহর গুনছেন মৃত্যুর।
কমলগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাজিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা চিরই শব্দকরের নিকট আত্মীয়রা তার বয়স শতবর্ষের কৌটায় পৌচেছে বলে দাবী করলেও ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী বয়স ৭৩ বছর। স্বামী অতুল শব্দকরকে হারিয়ে বিধবা হয়েছেন আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পূর্বে। তারও ৫/৬ বছর পূর্ব থেকে স্বামী হারা নিঃ সন্তান মেয়ে মীরা শব্দকর স্বামীর বাড়ী থেকে এসে পিত্রালয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন আজ অব্দি এখনেই আছেন। ৬ ভাই বোনের মধ্যে মীরা দ্বিতীয়। বড় ভাই ও ছোট ভাই কিছুটা স্বচ্ছল হলেও তারা ময়ের কোন খোজ খবর রাখেনা। মেজো ভাই বারীন্দ্র শব্দকরেরও নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তাই ইচ্ছে থাকলেও তার পক্ষে মায়ের জন্য কোন কিছুই করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। শেষমেষ বৃদ্ধ মায়ের ভরন পোষণের ভার নিতে হয়েছে অসহায় মীরাকেই।
এ যেনো মড়ার উপর খাড়ার ঘা এর মতো। অতিকষ্টের জীবনে একদিন খাবার জুটলেও হয়ত দু’দিন অনাহারে কাটাতে হয়। তার উপর বৃদ্ধ মায়ের ভরন পোষন।
বাবার রেখে যাওয়া এক চিলতে জমির ওপর খুুপরি ঘর করে বসবাস করছেন মীরা। দুবেলা খাবার জোটাতেই তার হিমশিম খেতে হয়। তার ঘরে বাতি জ্বালানোর পয়সা জোগার করা তার পক্ষে দুরুহ। তাই রাতে অন্ধকারে সাপ পোকামাকড়ের সাথেই বাস করছেন গত ২০ বছর ধরে।
স্থানীয়রা জানায়, স্বজনহারা বিধবা মীরা শব্দকরের ভাগ্যে যেমন জোটেনি বিধবা ভাতার কার্ড। তেমনি জীবন সায়াহ্নে উপনীত তার মা অতশীপর এই বৃদ্ধা চিরই শব্দকরের ভাগ্যেও জোটেনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা কোনটিই। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ জনপ্রতিনিধিদের নজর পড়েনি এই অসহায় বৃদ্ধা ও তার মেয়ের প্রতি। এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা আর কত বয়স হলে মীরা ও তার বৃদ্ধ মা চিরই শব্দকরের ভাগ্যে জুটবে সরকারী ভাতা।
কাজির গাঁও গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রকট আত্মসম্মানবোধের কারনে ভিক্ষাবৃত্তি করেন নি কখনো চিরই শব্দকর । ২০ বছর আগে স্বামী অতুল শব্দকরের মৃত্যুর পর বয়োবৃদ্ধ এই মহিলা অন্যের বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বার্ধক্য জেঁকে বসায় জীবন যুদ্ধে আজ পরাজিত তিনি। বয়সের ভরে ন্যুজ চিরই শব্দকর এখন চলাফেরা করতে পারেন না , লোপ পেয়েছে স্মৃতি শক্তিও।
এখন কোন উপার্জন নেই তার। খাবার কেনার সামর্থ নেই, রাতে আলো (প্রদীপ) জ্বালানোর তেল কেনারও টাকা নেই। কারো হাত পেতে কিছু নেওয়ার অভ্যাষ না থাকায় জীবনের শেষ সময়ে এসে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তার। ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে নেই কোন পানির ব্যবস্থা। প্রকৃতির কাজ সারাও নেই কোন সুবিধা। সামন্য টাকায় দিনমজুরী করে খাবার জিনিষের যোগাড় করার পর কেরোসিন কেনার টাকা থাকে না। তাই অন্ধকারের মধ্যেই রাত কাটাতে হয় তাদের। অন্ধকার ঘরে সাপ-পোকা মাকড়ের সাথেই রাত কাটে মা ও মেয়ের। রোগ ব্যাধী হলে গাছ-গাছালি বা স্থানীয় এক ডাক্তারের দেয়া ঔষধই তাদের বেঁচে থাকার ভরসা।
আলাপকালে মীরা ও তার বোন উষা জানান, অন্যের কাছে কিছু হাত পেতে নিতে লজ্জা করে। তাই কষ্ট হলেও অন্যের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে তা দিয়েই টান পোড়েনে দিন পার করছে তারা । এ অবস্থায় এভাবে তাদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়ে মীরা বলেন,
‘‘কমিমনারর টাইন ক-কবার গেছি, আমার মা ও আমার লাগি বয়স্ক ভাতা নাইলে বিধবা ভাতার দেওয়ার লাগি। গেছে ২০ বছর ধরি খালি আশাই দেরা , কাজর কাজ কুন্তাউ নাই। এর লাগি আর যাইবার মনে কয়না।”
এ বিষয়ে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলার আনসার শোকরানা মান্না বলেন, চিরই শব্দকরকে বার্ধক্য ভাতার কার্ড দেয়ার ব্যাপারে তার পরিবারের লোকজন আমার কাছে আসলেও বয়োবৃদ্ধতার কারনে বয়স্ক ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান করোনা সংকট নিরসনের পর তার বিধবা মেয়েকে আমরা বিধবা ভাতা ব্যবস্থা করে দেবো।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, অতিশীপরবৃদ্ধা চিরই শব্দকর আজও সরকারি ভাতার সুযোগ-সুবিধা পায়নি এসংবাদে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন তাকে একটি বিধবা বা বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থাকরে দিলে শেষ জীবনে হয়ত তাকে আর কষ্ট করতে হতনা। তিনি চিরই শব্দকর যাতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা সমাজসেবা বিভাগ ও পৌর মেয়রের সাথে কথা বলবেন বলে আশ্বাষ দেন।
স্থানীয় পৌর চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, এব্যাপারে ওই বৃদ্ধা তার কাছে কখনও আসেননি। খবরটি জানার পর ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের মাধ্যমে খোজ নিয়ে এবারের বরাদ্দেই তাকে সরকারি ভাতার আওতায় আনা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জ উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত- কমলগঞ্জ বার্তা

রাফি আহমেদ রিপন , কমলগঞ্জ ।। খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথা ভাবুন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে ...