Home / কমলগঞ্জ / আগামী ৪ঠা নভেম্বর কমলগঞ্জে রাস উৎসব ।। মনিপুরী মেয়ে হবে খঞ্জনা পাখী

আগামী ৪ঠা নভেম্বর কমলগঞ্জে রাস উৎসব ।। মনিপুরী মেয়ে হবে খঞ্জনা পাখী

বিশ্বজিৎ রায়ঃ বর্ণাঢ্য আয়োজন ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আগামী ৪ঠা নভেম্বর শনিবার কমলগঞ্জে অনুষ্টিত হবে মনিপুরী প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহারাস উৎসব। এবছর মাধবপুরের রাসোৎসবের ১৭৪ তম বার্ষিকী এবং আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও সানাঠাকুর মন্ডপ প্রাঙ্গনে রাসোৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে মনিপুরী মৈ-তৈ সম্প্রদায়ের লোকজন ৩২ তম মহারাস উৎসব উদযাপন করবে।

উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও সানাঠাকুর মন্ডপ প্রাঙ্গনে  মনিপুরী মৈ-তৈ সম্প্রদায়ের লোকজন এবং মাধবপুর জোড়া মন্ডপ প্রাঙ্গনে বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরীরা প্রতিবছর এ উৎসবের আয়োজন করে। উৎসব উপলক্ষ্যে উভয় স্থানে বসবে বিরাট মেলা।মনিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে উঠবে একদিনের এই আনন্দ উৎসবে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর,কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশী-বিদেশী পরযটক, বরেণ্য জ্ঞাণী-গুণী লোকজনসহ বিভিন্ন শ্রেণীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে  গোটা উৎসব অঙ্গন । মনিপুরী সম্প্রদায়ের পূণ্যস্থাণ হিসাবে বিবেচিত আদমপুর ও মাধবপুরে রাসোৎসবের জন্য তৈরী সাদাকাগজের নকশায় সজ্জিত  মন্ডপগুলো এই একটি রাত্রির জন্য হয়ে উঠবে লাখো মানুষের মিলনতীর্থ। মনিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।

 দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ১১টায় মাধবপুরে শ্রী কৃষ্ণের গোষ্টলীলা এবং আদমপুরে রাখাল নৃত্য। সন্ধ্যা ৬ টায় গুণীজন সম্বর্ধনা,সন্ধ্যা ৭টায় আলোচনাসভা ও মনোঞ্জঞ্ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান। আদমপুরে রাত ১১টায় নিপা পালা এবং রাত ১২ টায় মহারাস। মাধবপুরে রাত ১১টায় শুরুহবে মহারাসলীলা অনুষ্টান।  শুক্রবার ভোর রাত পর্যন্ত চলবে এই মহা-রাসলীলা অনুষ্টান। সূর্যোদয়ের পর  এই অনুষ্টানের ঘটবে পরিসমাপ্তি; তারপর সবাই ফিরে যাবে যার যার নিজ গন্তব্যে।

জানা যায়,  ১৭৭৯ সালে  মনিপুরের মহারাজা ভাগ্যচন্দ্র স্বপ্নদৃষ্ট হয়ে যে নৃত্যগীতের প্রবর্তন করেছিলেন  তাহাই রাসোৎসব। ভাগ্যচন্দ্রের পরবর্তী রাজাগনের বেশরিভাগই ছিলেন নৃত্যগীতে পারদর্শী এবং তারা নিজেরাও রাসনৃত্যে  অংশগ্রহন করতেন। এর ফলে মনিপুরী সম্প্রদায়ের মধ্যে এ কৃষ্টির ধারাবাহিকতায় কোন ছেদ পড়েনি। অতীতের সেই ধারাবাহিকতার সূত্র ধরেই  কোন রুপ বিকৃতি ছাড়াই কমলগঞ্জে উদযাপিত হয়ে আসছে মনিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব শ্রী কৃষ্ণের মহা রাসলীলা। তুমুল হৈ-চৈ,আনন্দ-উৎসাহ, ঢাক,ঢোল, মৃদঙ্গ ,করতাল এবং শঙ্খ ধ্বনির মধ্যদিয়ে রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে  ঘিরেই রবিবার দিনটি বছরের  অন্য সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসবে কমলগঞ্জ উপজেলাবাসীর জীবনে।

উল্লেখ্য যে, মনিপুরী এ নৃত্যকলা শুধু কমলগঞ্জের নয় ,গোটা ভারতীয় উপমহাদেশ তথা সমগ্র  বিশ্বের নৃত্যকলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে।১৯২৬ সালে সিলেটের মাছিমপুরে  মনিপুরী নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশিত রাসনৃত্য উপভোগ করে মুগ্ধ হয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর। পরে তিনি তার শান্তি নিকেতনে কমলগঞ্জের মনিপুরী নৃত্য শিক্ষক গুরু নীলেশ্বর মুখার্জীকে নিয়ে গিয়ে প্রবর্তন করেছিলেন মনিপুরী নৃত্য শিক্ষক।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জে শিশু অধিকার দিবস পালিত

  কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক, রিপোর্ট ॥ প্রতিটি শিশুর জন্য শৈশবকালীন অধিকার, প্রতিটি সন্তানের জন্য, প্রতিটি ...