Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / আজো পায় নায় চা- শ্রমিকরা ভূমির আইনি অধিকার

আজো পায় নায় চা- শ্রমিকরা ভূমির আইনি অধিকার

মানিক পাল : এ দেশের সবচেয়ে কম মজুরীর শ্রমিক হিসেবে চা- শ্রমিক প্রথম স্থান দখল করে আছে দীর্ঘদিন ধরে। গত দেড় শতাধিক বছর থেকে কোন মতে বেচে থাকার যুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে অভিরাম। তখন একটু উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছিলো এই চা- বাগানে শ্রমিক হিসেবে। কিন্তু এটা যে ছিলো ব্রিটিশদের মিথ্যা আশ্বাস ও ছলনা সাধারন শ্রমিকদের তা বুঝতে বেশি সময় লাগে নি। কিন্তু তখন দাসত্বের শৃঃঙ্কলে পা ছিলো বাধা। অসহায় বাধ্য হয়ে থাকতে হয়ছে চা- বাগানে মেনে নিতে হয়েছে অসহনীয় কষ্ট বঞ্চনা আর অপমানের জীবন। সব কিছুর পরে অ একটু উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে চা- বাগানের সবুজ টিলা আর কুড়ে ঘড়ের সাথে গড়ে তুলে নাড়ীর সম্পর্ক। কালের বিবর্তনে চা- শ্রমিকদের জীবন মান অনেক পরিবর্তন হলে অ ব্রিটিশ পাকিস্তান এমন কি স্বাধীন বাংলা ৪৬ বছর পরে আজো চা- শ্রমিকদের ৪ পুরুষের বসবাসের ভিটা মাটির কোন আইনি অধিকার চা- শ্রমিকের নেই। এমনি তে চা- শ্রমিকদের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় এর মধ্যে যদি কোম্পানি শ্রমিকদের বাগান থেকে তারিয়ে দেয় তবে মাথা গুজাবার কোন জায়গা থাকবে না। ১৯৭১ সালে চা- শ্রমিকরা বাংলার সকল মুক্তিকামিদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধর সময় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষনায় নিজের জীবন বাজি রেখে নেমে পড়ে দেশ মাতৃকার সেবায়। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে পাক হানাদার বাহিনির বিরুদ্ধে। স্বপ্ন ছিলো হয়তো বা স্বাধিন দেশের নাগরিক হিসেবে চা- শ্রমিকরা পাবে ভুমির মালিকানা। তবে স্বাধিন দেশের নাগরিক হলে ও ভুমির মালিকানার স্বপ্ন স্বপনই থেকে যায়। তরুণ সংগঠক চা- শ্রমিক সন্তান মোহন রবিদাস বলেন ” যারা আমরা ৪ পুরুষ ধরে চা- বাগানে বাস করে আসছি আমাদের যে ভূমি অধিকারটা নায় এটা একটা অকল্পনীয় বিষয়। প্রচলিত যে আইন কানুন একটা জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দরকার সরকারের যে ধরনের রক্ষাকবজ আছে এমন কি আন্তর্জাতীক ভাবে একটি জনগোষ্ঠী যে নিয়মে ভূমির অধিকার পাওয়ার যোগ্য তার সবগুলোয় চা- শ্রমিকের মধ্যে আছে। তিনি আরো বলেন চা- শ্রমিকের ভূমি অধিকার না থাকায় শ্রমিকরা বিরাট ক্ষতির মধ্যে পরছে। চান্দপুর – বেগমখান ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও বা চা শ্র ই এর যুগ্ন সম্পাদক নিপেন পাল বলেন “আমাদের ৪ পুরুষরা পাহার কেটে চান্দপুর বেগমখান এলাকায় ফসলি জমির উপযোগি করে। কিন্তু কিছু সুবিধাবাদির ভুল তথ্যর জন্য সরকার খাস জমি হিসেবে ৫১১.৮৩ একর জায়গাতে ইকনোমিকের জোন হিসেবে বরাদ্ধ দেয়। কিন্তু এটা কোন খাস জমি না চা শ্রমিকরা যুগের পর যুগ এখানে ফসল ফলিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভূমি রক্ষার জন্য দিন রাত সগ্রাম করে জাচ্ছে সমগ্র চা- জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তিনি আরো দুঃখের সহিত জানান। আমরা ৮৫ টাকা মজুরির মানুষ খাবার ৩ বেলা ভাত জুটে না কিন্তু চাঁদা করে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে ভূমি রক্ষার জন্য স্বারকলিপি দেয়। কিন্তু কোন রকম পদক্ষেপ নিচ্ছেন না উনারা। আজ যদি আমাদের ভুমির আইনি অধিকার থাকতো তবে চা- শ্রমিকরা এতো বড় সমস্যা আসতো না।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে “Adverse Possession” বা দখলী স্বত্ব বলে একটি আইন আছে ১২ বছরের অধিককাল কেউ যদি কোন জায়গায় অবস্থান করে, তবে সেই জায়গার উপর তার একটা মালিকানা তৈরি হয়। আর চা- শ্রমিকরা আছেন দেড় শতাধিক বছর ধরে। তায় ক্রমে ক্রমে ভূমির অধিকার চা- শ্রমিকদের প্রাণের দাবিতে পরিনত হচ্ছে। চা শ্রমিকরা যদি ভূমির অধিকার পায় তা হলে চা- শিল্পের জন্য হবে তা ইতিবাচক।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাই চেষ্টা ব্যর্থ, অভিযানে ছিনতাইকারী নিহত

কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক,নিউজ॥ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সেনা সদস্যদের একটি দল চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *