Breaking News
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / আজ চা শ্রমিক দিবস: ৯৯ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি দিবসটি

আজ চা শ্রমিক দিবস: ৯৯ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি দিবসটি

রাফি আহমেদ রিপন, কমলগঞ্জ ।।

আজ ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস। ১৯২১ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে বৃটিশ সৈন্যরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হাজার হাজার চা শ্রমিককে হত্যা করে। এরপর থেকে ২০ মে চা-শ্রমিকেরা ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন।

তবে বারবার দাবি জানানো এবং অনেক আন্দোলনের পরও ৯৯ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি দিবসটি। ঘুচেনি চা শ্রমিকদের বঞ্চনা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ  উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিকনেতা রবি মুন্ডা জানান, চা শ্রমিকদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এদেশে এনে স্বল্প মজুরীর মাধ্যমে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের কাজ করানো হয়। তাই শ্রমিকরা নিজ মুল্লুকে ফিরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। এখনো চা শ্রমিকরা বঞ্চিত আছে। চা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগান এবং লস্করপুর চা বাগানে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না। ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানে চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সে সময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসেব নেই। এ ছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই।

তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরন ‘মুল্লুকে চল’ (দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌঁছেন। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশরা গুলি চালিয়ে শত শত চা শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে এসেছিলেন তাদেরকেও আন্দোলন করার অপরাধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

মেঘনা ঘাটে আসাম রাইফেলস এর গোর্খা সৈনিকরা নির্মমভাবে চা শ্রমিকদের হত্যা করে। এর পর যারা বেঁচে ছিলেন তারা নিরুপায় হয়ে আবারো বাগানে চলে আসেন।

পরে বঙ্গবন্ধুর ডাকে চা-শ্রমিকরা তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধ করে। কিন্তু দেশে এখনো চা শ্রমিকরা ভূমির অধিকার ধেকে বঞ্চিত। চা শ্রমিক নেতা  শংকর কৈরী জানান, এখনো চা শ্রমিকদের জীবনমানের কোনো উন্নয়ন ঘটে নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা এখনও পূরণ হয়নি।

তিনি ২০ মে রাষ্ট্রীয়ভাবে চা শ্রমিক দিবস ঘোষণা এবং ওই দিন সবেতনে ছুটি বাস্তবায়নেরও দাবি জানান। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের চাকরি ক্ষেত্রে কোটারও দাবি জানান তিনি

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, ‘চাশ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধি, ভূমি অধিকার, বাসস্থান চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছি কিন্তু এসব বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাঁদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে

তার দাবীঅবহেলিত চাশ্রমিকদের বাসস্থানের জায়গাটুকু তাঁদের নিজের নামে দিতে হবে। যাতে বাগান কর্তৃপক্ষ যখনতখন ভূমি থেকে চাশ্রমিকদের উচ্ছেদ করতে না পারে। যে বসতভিটায় প্রায় দেড় বছর ধরে বসবাস করে আসছি, আমরা চাই সরকারের মাধ্যমে সেটা আমাদের নামে দেওয়া হোক। যদি সেটা করা হয়, তাহলে আমরা দাসত্ব জীবন থেকে মুক্তি পাব।

আজ বুধবার দিবসটি  উদযাপন উপলক্ষ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানে  ছাত্র-যুব সংঘ সহ দেশের বিভিন্ন চা-বাগানের চা ছাত্র-যুব সংঘের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।  বিভিন্ন  কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গুলিতে নিহত চা-শ্রমিকদের স্মরণে শহীদবেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে  সংক্ষিপ্ত র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

জেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেলেন মিছবাউর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মিছবাহুর ...