Home / সম্পাদকীয় / আমরা প্রবাসীদের ঈদ মানে কষ্ট ঈদ মোবারক সকল কে

আমরা প্রবাসীদের ঈদ মানে কষ্ট ঈদ মোবারক সকল কে

তুহিন আহমদ জহির।।
ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। এই কথা সবাই মানলেও প্রবাসীদের জীবনে এই কথার বাস্তবতা খুজে পাওয়া মুশকিল। প্রবাসীদের ঈদটা একটু অন্য রকম। প্রবাসে অনেকেই আছেন যাদের জন্য ঈদের দিনটা অত্যান্ত কষ্টের। মুসলমানদের জন্য
সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ। এই ঈদকে নিয়ে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন আশা আকাংখা আর প্রস্তুতির কমতি থাকেনা। ঈদ আসে ঈদ যায় কিন্তু প্রবাসী শ্রমিকদের কষ্ট এতটুকুও কমেনা। বিশেষ করে আমার মতো গত ঈদেও আমার আম্মাকে ফোনে ঈদ মোবারক বলেছি আরও কত কথা, আমি ও শারমিন প্রতি ঈদে আমাদের ঝগড়া লাগতো এটা স্বাভাবিক, কিন্তু আম্মায় সমাধান করে দেয়া লাগতো, আজকের ঈদে শারমিন এর সাথে ঝগড়া হয়নি কারন কে সমাধান করবে আজতো আর আম্মা নাই, আম্মা চলে গেছেন না ফেরার দেশে আল্লাহ যেন আমার আম্মাকে জান্নাত দান করেন আমিন, যাক মনে পড়ে ফজরের আযানের পর দল বেধে ছুটা-ছুটি, দলবেধে পুকুরে ঘোসল শেষ করে সামান্য মিষ্টি মুখ করে নতুন জামা কাপড় পরে ঈদগাহ মাঠে যাওয়া এখন শুধুই স্মৃতি। এখন আর নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাশের বাড়ির কেউ ডাক দিয়ে বলেনা সেমাই খেয়ে যাও। এখন আর নতুন জামা পরে সালাম করলে কেউ নতুন টাকার নোটগুলো হাতে উঠিয়ে দেয়না। এসবের একটাই কারন আর তা হলো আমি এখন বাংলাদেশ থেকে অনেক অনেক দুরে। কাতারের মরু প্রান্তরে। এখানে ঈদ মানে শুন্যতা, ঈদ মানে না পাওয়ার কষ্ট।পবিবার পরিজন ছাড়া ঈদ যে কত কষ্ট তা একমাত্র প্রবাসীরাই বুঝে। সকাল হলেই ঈদ কিন্তু অনেকেই আছে ডিউটিতে। শেষ রাতে ঘোসল সেরে সন্ধ্যা রাতের বাশী ভাত আর বাশি তরকারী খেয়ে ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি। পুর্বাকাশে সুর্য মামার দেখা পাওয়ার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায় ঈদের নামাজ । এর মাঝে আসতে শুরু করবে দেশ থেকে আপনজনদের মিসকল আর খুদে বার্তা। ঈদের প্রস্তুতি জানার জন্য ফোন করেছিলাম শারমিন কে। ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করতেই পাশ থেকে আমার ছেলে মাহী ও ছোট মেয়ে মাহা কি যেন বলতে চাইছে । তার মাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম সে বুঝাতে চেয়েছে গতকাল বাজার থেকে তাদের জন্য জামা ও পান্জাবী আনা হয়েছে । আর সেটা তাদের পছন্দ হয়েছে। ছেলের আরো লাগবে জেল চুলে দেবার জন । ছোট্র মেয়েটার অস্পষ্ট কথাগুলো শুনে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো ।মা-ছেলে-মেয়ে তিন জনের কথা শুনছিলাম আর চোখের পানি মুছতে ছিলাম টিস্যু দিয়ে ।সবকিছু
খুলামেলা না বললেও এতুকুটু বুঝতে পেরেছি ঈদে খরচ করার জন্য যে টাকা
পাঠিয়েছি তা বর্তমান সময়ের জন্য যথেষ্ট নয়। কিছুটা ভাল লেগেছে যখন জানলাম সবার জন্য কেনাকাটা শেষ। এখন শুধু অপেক্ষা ঈদের দিনটার জন্য। এতটুকু জেনে ভালো লাগলো আমার কষ্টের উপার্জিত সামান্যতম টাকা দিয়ে আমাদের পরিবার সুখে -শান্তিতে ঈদ করতে পারছে। এটুকুই আমার মতো প্রবাসীদের স্বার্থকতা। ঈদের নামাজ আর দেশে ফোন করার পর কষ্টের তীর্বতাটাকে আরো ভারী করে ঘুমানোর প্রস্তুতি। বুকফাটা কষ্ট আর যন্ত্রনাটাকে বুকে নিয়ে বিছানায় যেয়ে চোখের পানিতে বালিশ বিজিয়ে একটু ঘুমানোর চেষ্টা যেন কষ্টের ভার টা একটু কমে। আর তাতেই দুপুর ঘনিয়ে পুর্বের সুর্যটা পশ্চিমে হেলতে শুরু করে। বিছানা থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে সামান্য কিছু মুখে দিয়ে আবার কাজে যেতে হয় । এভাবেই কেটে যায়
প্রবাসীদের ঈদ নামের কষ্টের দিনটি।
সকল প্রবাসী ভাই বোনদের প্রতি রইলো ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারাক /

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাই চেষ্টা ব্যর্থ, অভিযানে ছিনতাইকারী নিহত

কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক,নিউজ॥ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সেনা সদস্যদের একটি দল চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ...