Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক /  আসাম-বেঙ্গল রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প :: বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

 আসাম-বেঙ্গল রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প :: বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

বিশেষ প্রতিনিধি ।। বহুল আলোচিত আন্তদেশীয় আসাম-বেঙ্গল রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় রেললাইন পুনঃস্থাপনের কাজে চলছে মন্থর গতি । চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের মে মাসেই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে কাজটি সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মাণকৃত ৫২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার সাথে যুক্ত। দেশ ভাগের পর শুধুমাত্র কুলাউড়া-শাহবাজপুর পযর্ন্ত ট্রেন চলাচল করতো । এক সময় এ  রেলপথটি ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ২০০২ সালের ৭ জুলাই এ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । এতে যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েন কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার ৮-১০ লাখ মানুষ ।তারা  রেলপথটির সংস্কার করে পুনরায় ট্রেন চলাচলের দাবিতে  বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৬ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৬৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে ১২২ কোটি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এবং ৫৫৬ কোটি টাকা ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া। ওই বছরের (২০১৫) ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। যথারীতি দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে এ কাজটি পায় ‘কালিন্দি রেল নির্মাণ’  নামে ভারতীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ।এবং প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ভারতের ‘বালাজি রেল রোড সিস্টেমস’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান।কার্যাদেশ অনুযায়ী, গত বছরের ৭ মে কাজ শুরু হয়। ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের আতায় কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথে কুলাউড়া, জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর নামে যে ৬টি ডুয়েল গেজের স্টেশন রয়েছে তার মধ্যে  চারটি  ‘বি’ শ্রেণীর ষ্টেশন ও দুটি  ‘ডি’ শ্রেণীর ষ্টেশন নির্মাণ এবং রেলপথটিতে থাকা ১৭টি বড় সেতু, ৪২টি ছোট সেতু ও কালভার্ট পুণঃনির্মাণ করার কথা। কিন্তু শুরু থেকেই চলছে প্রকল্পের কাজে ধীর গতি। কার্যাদেশ অনুযায়ী দেড় বছরে ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এ সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০-২২ শতাংশ। গত ৮ আগস্ট থেকে রেললাইনের রেলস্ট্রেক এনে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনের চালবন্দ ও উত্তর শাহবাজপুর এলাকায় তিনটি স্থানে তা  মজুত করা হচ্ছে। শাহবাজপুর স্টেশন এলাকায় পুরোনো রেল সরিয়ে ফেলে ওই এলাকার কিছু স্থানে রেলপথে নতুন করে মাটি-বালি ফেলা হচ্ছে। কয়েকটি বড় ও ছোট সেতু ভেঙ্গে ফেলে নতুন করে সেতু  নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।  এ ছাড়া নির্মাণ কাজের তেমন কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার ও রেলসচিব সরেজমিনে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে ধীরগতির বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ও রেলওয়ের ঢাকার প্রধান দপ্তরের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আহসান জাবির প্রকল্পের কাজে এখনো আশানুরুপ অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নেই। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বার বার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু, তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
রেলওয়ের কলসালটেন্ট মো. এমদাদ হোসেন জানান, কাজে অগ্রগতি না থাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কোন বিল দেয়া হচ্ছে না। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে।
তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ভারতীয় প্রকৌশলী মি. মুখেশ জানান, কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। মাঝে বৃষ্টির জন্য কাজে ব্যাঘাত ঘটে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে দ্রুত কাজ চলছে । তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জে শেষ হলো ২দিন ব্যাপি শান্তি নিকেতনে মনিপুরী নৃত্য প্রবর্তণের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্টান

কমলগঞ্জ বার্তা রিপোর্ট :: গতকাল শূক্রবার চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, সেমিনার , আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক ...