Breaking News
Home / আলোচিত খবর / কমলগঞ্জের আদর্শ কৃষক জমির উদ্দিন এখন লেবু চাষে স্বাবলম্বী

কমলগঞ্জের আদর্শ কৃষক জমির উদ্দিন এখন লেবু চাষে স্বাবলম্বী

রাফি আহমদ রিপন, কমলগঞ্জ ।।

আদর্শ কৃষক মোঃ জমির উদ্দিন। বয়স ৩৮ এর কাছাকাছি। তিনি ১ সন্তানের জনক। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের বাল্লারপার গ্রামের  মোঃ আমীর আলীর ছেলে। জমির উদ্দিন লেখাপড়ার জগতে একজন আদর্শ শিক্ষার্থী হতে না পারলেও পেশার জগতে তিনি একজন আদর্শ কৃষক। আজ থেকে ১৫ বছর আগে ছাত্র জীবন পাড়ি দিয়ে কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত হন। যুবক বয়স থেকেই বিভিন্ন ফলদ, সবজি ও ফসল উৎপাদন করায় তার নেশা বা পেশা।

এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি গত ২০০৫ ইং সালে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পদ্মছড়া চাবাগান সংলগ্ন পতিত ২ একর ৪০ শতক জমিতে কাগজী লেবু চাষ করেন জমির উদ্দিন। চা শ্রমিক শিবরাম তন্তবায় ও তার চাচার নিকট থেকে ১৫ বছরে মোট ১ লক্ষ টাকা প্রদানের শর্ত মেনে ভাড়া নেন এই জমি।

আর ওই জমিতে ৬০০ টি লেবু চারা রোপণের ২ বছর পর থেকে লেবু আসতে শুরু করে। দেশীয় জাতের লেবু হওয়ায় প্রায় বার মাসেই গাছে লেবু থাকে। প্রতি বছরে শ্রমিক,সার-কীটনাশক ও পরিবহন বাবদ তার ব্যয় হয় প্রায় ১ লক্ষ টাকা। আর এসব লেবু স্থানীয় হাট-বাজারে প্রতিহাজার লেবু বিক্রী করেন ৩ থেকে ৫ হাজার দরে। প্রতিমাসে  ১৫থেকে ১৬ হাজার লেবু তিনি বাজারজাত করছেন। এই হিসাবে সারা বছরে তিনি লেবু বাজারজাত করে আয় করছেন ৮ থেকে সাড়ে ৮ লক্ষ  টাকা। ফলশ্রুতিতে  তিনি লেবু চাষ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছেন। খরছ বাদে প্রতিবছর শুধু লেবু উৎপাদনের মাধ্যমেই তার আয় হচ্ছে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। লেবুর পাশাপাশি সাথী ফসল হিসাবে তিনি চাষ করেছেন কলা, কুমড়া, করলা, লাউ ও বোম্বাই(নাগা) মরিছের। এই সাথী ফসল বাজারজাতকরণ ও কলমচারা বিক্রয়ের মাধ্যমে বছরে তার আয় হচ্ছে আরও প্রায় লাখ খানেক টাকা। তার এই সাফল্যের চিত্র স্বচক্ষে দেখতে দুই বছর পূর্বে তার খামারে ছুটে এসেছিলেন  দেশের প্রখ্যাতত কৃষিবিদগন।

জমির উদ্দিনের লেবুর চাষাবাদকে অনুকরণ করে সম্প্রতি ওই এলাকার  মিজান মিয়া, রমজান মিয়া, জহির মিয়া, আনোয়ার, সাঈদ মিয়াসহ আরও অনেকে লেবু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

তবে চাষিদের অভিযোগ, লাভজনক হওয়াতে দিন দিন  এই এলাকায় লেবু চাষির সংখ্যা বাড়লেও চাষীরা লেবু চাষের জন্য সরকারি সহায়তা কিংবা কৃষি বিভাগের কোন পরামর্শ তারা পাচ্ছেন না । এখানে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে লেবুর ফুল আসতে শুরু করে। আর ফলন দেয় জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র মাসজুড়ে। সরকার তথা কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগতভাবে প্রশিক্ষণসহ লেবু চাষে নিয়মিত সহযোগিতা করলে এই এলাকা থেকে অনায়াসে আয় হতো কোটি কোটি টাকা।

তিনি বলেন, এ কাজে সরকারি কিংবা বে-সরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে একদিকে যেমন বেড়ে যাবে শ্রমজীবিদের কর্মসংস্থান অন্যদিকে ফিরে আসবে ঘরে ঘরে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

 

কমলগঞ্জ উপজেলা শহরের পাইকারি আড়ৎ ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জানান, গ্রীষ্মের গরমে, রমজান মাসে, বিভিন্ন বিবাহ ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে লেবুর কদর বেশি হওয়ায় এ লেবুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সারা বছরই এর চাহিদা থাকায় বর্তমান বাজারে লেবুর দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। প্রতি হালি (৪টি) লেবুর দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এখানকার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে।

তিনি বলেন, আমার মত উপজেলার আদমপুর ও শমসেরনগরে আরও ৩-৪ টি আড়ৎ রয়েছে। ওই এলাকার লেবু চাষিরা আমাদের আড়তে লেবু বিক্রির পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল উপজেলাস্থ দেশের বৃহত্তম লেবুর পাইকারী বাজারে তাদের উৎপাদিত লেবু বিক্রী করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজিৎ রায় জানান, এখানে প্রচুর পরিমাণ লেবু উৎপাদন হলেও হিমাগার না থাকায় অনেক সময় পচন ধরে লেবু নষ্ট হয়ে যায়। এখানকার চাষিরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা হিমাগারে উৎপাদিত লেবু সংরক্ষণ করতে পারলে তা বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হতো। সরকারিভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নিলে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে এখানকার লেবু ও ফলজ চাষিরা এমন প্রত্যাশা করছেন এলাকার সুশীল সমাজ।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ বলেছে, পদ্মছড়া এলাকায় লেবু চাষের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খতিয়ে দেখে চাষীদের লেবু চাষে সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হবে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জ উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত- কমলগঞ্জ বার্তা

রাফি আহমেদ রিপন , কমলগঞ্জ ।। খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথা ভাবুন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে ...