Home / কমলগঞ্জ / কমলগঞ্জের শমশেরনগর মুক্ত দিবস শোভাযাত্রা পালিত

কমলগঞ্জের শমশেরনগর মুক্ত দিবস শোভাযাত্রা পালিত

এম এম আর খান বাবু ॥ ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাক শক্রুদের প্রতিহত করে মুক্তিযোদ্ধারা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর মুক্ত করেছিল। শমশেরনগর সাহিতাঙ্গণের উদ্যোগে ৩ শতাধিক কলেজ শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে শোভাযাত্রা করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ডাক বাংলোর বটবৃক্ষের তলায় মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করলেন।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা ১টায় শমশেরনগর সুজা মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী প্রায় ২ কিলোমিটার পথ শোভাযাত্রা করে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। বেলা পৌণে ২টায় শমশেরনগর শমশেরনগর পশ্চিম বাজারস্থ ডাক বাংলোর ঐতিহাসিক বট বৃক্ষের তলায় কলেজ শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের অংশ গ্রহনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই ৩ ডিসেম্বর শমশেরনগর মুক্ত দিবস ও শমশেরনগর ডাক বাংলোয় ১৯৭১ সালের কক্ষ সম্পর্কে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিতাঙ্গনের প্রধান ও সুজা মেমোরিয়াল কলেজ অধ্যক্ষ ম.মর্শেদুর রহমান। স্মৃতিচারণ মুলক বক্তব্য রাখেন মো.মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা নির্মল দাস, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, লেখক ও গবেষক অধ্যক্ষ রসময় মোহান্ত, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ১৯৭১ সালে শমশেরনগর ডাক বাংলোয় নির্যাতেন শিকার শহীদ পরিবার সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির।

এর পর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীণ ধলাই সাব সেক্টরে বীর শ্রেষ্ঠ সিহাহী হামিদুর রহমানের সহযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাজ্জাদুর রহমান ২৮ মার্চ প্রথম মুক্তিকামী বাঙ্গালীদের প্রতিরোধ আন্দোলনে পাক সেনা ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ৯ জন সেনা সদস্যকে হত্যা সম্পর্কে ও পরবর্তীতে এখানে ক্যাম্প স্থাপন করে পাক সেনারা কিভাবে নিরিহ বাঙ্গালীদের নির্মম নির্যাতনের পর বধ্যভূমিতে হত্যার বর্ণণা তুলে ধরেন।

এসময় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী নিরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তযুদ্ধকারীণ পাক সেনাদের নির্যাতনের বর্ণনা শুনে।
মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বক্তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, আজও ইতিহাসের স্বাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বট বৃক্ষ, রয়েছে ডাক বাংলো ও নির্যাতন কক্ষ। এগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি এখানে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করার।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মুহুর্তে ২৮ মার্চ সর্ব প্রথম মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ৯জন পাক সেনাকে হত্যা করেছিল শমশেরনগরে। এরপর দীর্ঘ নয় মাস পাক সেনারা শমশেরনগরে শক্ত ঘাটি স্থাপন করে নারকীয়ভাবে নির্যাতন পরিচালনা করে অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছিল স্থানীয় বিমান বন্দরের রানওয়ের বধ্যভূমিতে।

এখানে পাক সেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছিল। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় ঠিকে থাকতে না পেরে পাক সেনারা ৩ ডিসেম্বর শমশেরনগর ছেড়ে মৌলভীবাজার জেলা সদরের দিকে পিছু হটেছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

৫ ডিসেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলা মুক্ত দিবস

কমলগঞ্জ বার্তা ॥ ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কমলগঞ্জ উপজেলা মুক্ত দিবস। স্বাধীনতার উষালগ্নে ১৯৭১ সালের এই দিনে ...