Breaking News
Home / অপরাধ / কমলগঞ্জে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে শুভংকরের ফাঁকি :: কাজ না করেই বেতন নিচ্ছেন শিক্ষকরা

কমলগঞ্জে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে শুভংকরের ফাঁকি :: কাজ না করেই বেতন নিচ্ছেন শিক্ষকরা

কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়নে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক ব্যুরোর আওতাধীন এই  প্রকল্প ভূক্ত কমলগঞ্জ উপজেলার তিনশ’ শিখন কেন্দ্রের ৯৫ ভাগ শিক্ষা কেন্দ্রেই ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন। ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শিখন কেন্দ্রগুলোর শিক্ষকরা সংশ্ষ্টি সুপারভাইজারদের ম্যানেজের মাধ্যমে কাজ না করেই বেতন তুলে নিচ্ছেন।তাদের এহেন কর্মকান্ডে সরকারের গৃহীত এই প্রকল্পের আসল উদেশ্য যেমন ব্যর্থ হয়েছে তেমনি কাজ না করেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বরাদ্ধকৃত অর্থ ।

নামপ্রকাশে অন্চ্ছিুক এক সূত্রমতে, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এনজিও সংস্থা ওয়াফ ছয় মাসের উপকরণ কেনার জন্য ১৮ লাখ টাকা বিল স্বাক্ষরের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে জানেন না বলে স্বাক্ষর দিতে রাজি হননি। পরে ওয়াফের চাপে বিলে স্বাক্ষর দেন তিনি।

উল্লেখ্য যে,দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে মৌলিক শিক্ষার আওতায় আনার জন্য সরকার বিগত ২০১৮ সালে এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়।মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় মহতী প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে পায়  “ওয়াফ” নামে একটি সংস্থা। দ্বায়িত্ব পাবার পর ওয়াফ যথারীতি তাদের প্রকল্প এলাকায় যথারীতি সুপারভাইজার ও শিক্ষক নিয়োগ দেন ঐ সনের ফেব্রুয়ারী মাসের শেষদিকে। ৩০০ শিখন কেন্দ্রে জন্য ১৫ জন সুপার ভাইজার ও ৬০০ শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর তারা বিভিন্ন এলাকায় শিখন কেন্দ্রের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে গ্রাম থেকে বয়স্কদের ডেকে তাদের হাতে বই তুলে দিয়ে ছবি তোলার মাধ্যমে দ্বায়িত্ব সেরেছেন।তারপর আর কখনও সেই বিদ্যালয় গুলোতে আর ক্লাসই হয়নি। শিক্ষকরা আর সে পথ না মাড়ালেও বাড়ীতে বসে খাতাপত্রে তারা ঠিকই হাজিরা দিয়েছেন। আবার অনেকক্ষেত্রে কোন স্কুলই চালু হয়নি অথছ খাতাপত্রে দেখানো হয়েছে স্কুল চালু হয়েছে। এই হলো এই উপজেলার মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবচিত্র। এলাকাবাসীর অভিযোগ সুপারভাইজারদের অবহেলা ও দূর্নীতির কারনে শিক্ষকরাও জড়িয়েছেন দূর্নীতিতে ।কাগজে-পত্রে থাকলেও বাস্তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি।যথাযত তদন্ত হলে এই প্রকল্পের সকল দূর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র জনসমক্ষে আসতো।কিন্ত এই অনিয়মের বিষয়টি যারা খতিয়ে দেখবেন তারাই কুম্ভকর্ণের ঘুমে । তাদের এ ঘুম ভাঙ্গাবে কে ?

প্রকল্প শুরু হওয়ার পর নানা অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস পর ভূয়া শিক্ষার্থীদের নামে সাটিফিকেট বিতরন ও সুপারভাইজার এবং শিক্ষক শিক্ষিকার মধ্যে সন্মানী ভাতা বিতরণ শুরু হলে অনিয়মের বিষয়টি আবার সামনে আসে।বিভিন্ন এলাকার লোকজন মুখ খোলেন প্রকল্পের নানা অনিয়মের বিষয়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন কালে শিক্ষার্থী ও শিখন কেন্দ্রের কর্মরত সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি  শিখনকেন্দ্রের শিক্ষার্থী হবেন ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী  নিরক্ষর লোক । এবং প্রত্যেক কেন্দ্রে  দুই শিফটে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করার কথা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্যে ব্ল্যাক বোর্ড, চক, খাতা, কলম, মাদুর ক্রয় এবং কেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ বিল ও ঘরভাড়া প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তা না করেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সরেজমিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামিরকোণা গ্রামের শিখন কেন্দ্র ও সরইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিখন কেন্দ্র, শমশেরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষকগন স্কুল পরিচালনা করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শমশেরনগর ইউনিয়নের বেশ ক‘টি শিখন কেন্দ্রের  শিক্ষক-শিক্ষিকা জানালেন তাদের সাথে সুপারভাইজার মাঝে মধ্যে যোগাযোগ হলেও স্কুল পরিচালনার বিষয়ে কোন  কথা হতো না কখনো। শুধু একদিন বই বিতরেণের মাধ্যমে ছবি তুলে পাঠিয়ে  তারা তাদের দ্বায়িত্ব সেরেছেন। প্রত্যেক শিক্ষক তার সম্মানী হিসেবে পাওয়ার কথা ১হাজার ২শ’ টাকা। সুপারভাইজারদের তদারকি না থাকায় বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষক শিক্ষিকাগন স্কুলে না গিয়ে এবং কোন পাঠদান না করেই বেতন উত্তোলন করেছেন।

এ ব্যাপারে শমশেরনগর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন বলেন, শিক্ষকদের এই সামান্য পরিমান বেতন দিয়ে স্কুল চালানো প্রায় অসম্ভব, তাই এই প্রকল্প সঠিক ভাবে পরিচালনা সম্ভব হয়নি। কাজ না করে বেতন উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধরে নিন সরকার আমাদের বেকার ভাতা দিচ্ছে।

প্রকল্পের নানা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও ওয়াফ এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আব্দুল মালিক এই বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের   তদারকির কথা বলে চাইলেও কমলগঞ্জ গণশিক্ষা প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার সাইফুল বলেছেন ভিন্ন কথা।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আসলে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে এনজিওরা কিছু ফাঁকি দিয়েছে। তবে চা-বাগানে মোটামুটি স্কুল দেখা গেছে। তিনি আরো বলেন, কিছু ক্ষেত্রে যারা স্কুল চালায়নি, তারাও টাকা তুলে নিয়েছে। তা ছাড়া যতটুকু সম্ভব কাজ আদায় করে নেওয়া হয়েছে। আর প্রকল্পের কাজ গত জুনে শেষ হয়েছে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রাফি আহমদ রিপন, কমলগঞ্জ ।। “মাদককে না বলি, সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ি” এই শ্লোগানকে সামনে ...