Breaking News
Home / জাতীয় / জুড়ী উপজেলায় বাতাবি লেবুর চাষ করে আত্মনির্ভরশীল কয়েকটি পরিবার

জুড়ী উপজেলায় বাতাবি লেবুর চাষ করে আত্মনির্ভরশীল কয়েকটি পরিবার

 

 

বিশ্বজিৎ রায় ॥

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন গুণেভরা বাতাবি লেবুর বানিজ্যিকভাবে চাষ করে কয়েকটি পরিবার এখন আত্মনির্ভরশীল। গোলাকৃতি ফলটি সিলেট অঞ্চলে জাম্বুরা নামে পরিচিত।স্থানীয় ভাবে এটি মাতুল জামির নামেই ব্যাপক পরিচিতি ।

টক-মিষ্টি স্বাদের সুপরিচিত এই দেশী ফলটির ভেতরের রসাল কোষগুলোর ঘনত্ব বেশি এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ । এর পুষ্টিমান অনেক উন্নত প্রতি ১০০ গ্রাম বাতাবি লেবুর মধ্যে আছে ৩৭ কিলো ক্যালোরি, শর্করা ৯.২ গ্রাম মুক্ত চিনি থাকে ৭ গ্রাম, সামান্য খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও ফ্যাট বিদ্যমান। বিটা ক্যারেটিনের পরিমাণ ১২০ মি.লি গ্রাম, ৬০ গ্রাম ভিটামিন বি ও থাকে। ফলটিতে ক্যালরি কম থাকায় ডায়বেটিস ও স্থুলকায়দের জন্য খুবই উপকারী। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটির দামও সাধ্যের মধ্যে। একটি বাতাবি লেবু   বা জাম্বুরা স্থান ভেদে ৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়।

সরেজমিন গিয়ে চাষি আব্দুল মন্নান, মছব্বির আলী, সায়েব আলী ও মোঃ ইয়াবুব আলীর বাতাবি লেবুর গাছ গুলো দেখে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, বাতাবি লেবু বা জাম্বুরা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত গ্রামীণ ফল। বাতাবি লেবু গ্রামীণ জনপদের পাহাড়ি অঞ্চলের টিলাগুলোতে ফলন ভালোহয়। তবে বেশির ভাগই বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজের আশপাশে পতিত জায়গা যেখানে জল জমেনা সেখানে বাতাবি লেবুর চাষ করা সম্ভব।সাধারণতঃ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাঁকা ফল পাওয়া যায়। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে ২৫০-৬০০ টি জাম্বুরা ধরে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে প্রতি হেক্টর ১৫ থেকে ২০ মেট্রিক টন বাতাবি লেবু উৎপাদন করা সম্ভব। যা বিক্রয় করে দরিদ্র কৃষক পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল করা সম্ভব।কিন্ত চাষিদের অভাবের কারনে তারা ফলটি পাকার আগে পাইকারের কাছে বিক্রয় করে দেয়। তাতে করে কৃষক তার ন্যায মূল্য পায়না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় নায্যমূল্যে সার ও কীটনাশক পেলে তাদের মতো আরও অনেকেই বাতাবি লেবুর চাষে এগিয়ে আসবেন, এমনটাই জানিয়েছেন চাষিরা।

 

উপজেলা কৃষি সূত্র জানিয়েছে, জুড়ী উপজেলার হায়াছড়া, শুকনাছড়া, জামকান্দি, দূর্গাপুর, গৌবিন্দপুর, বিনোন্দপুর, লালছড়া, রোপাছড়া, লাঠিটিলা, কচুরগুল, কুচাইতল, পুটিছড়াসহ বিভিন্ন গ্রামেরটিলাবাড়ি বা বসতবাড়ির আশপাশের ৬.৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ হাজার বাতাবি লেবুর গাছ, ১৩ শ কৃষক চাষাবাদ করছেন। প্রতি গাছ থেকে ২০০-৫০০ টি বাতাবি লেবুর ফলন হয়েছে। এগুলো বেশির ভাগইস্থানীয় জাতের। চাষিরা অন্যান্য ফসলাধির পাশাপাশি বাতাবি লেবু চাষাবাদে অত্রাঞ্চলের আগ্রহ ও উৎসাহ দেখাচ্ছে। যদি স্থানীয় বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া যেত, তাহলে এ চাষাবাদে আরো অনেকেই আগ্রহী হতেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জানান, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামি বছরগুলোতে আরো ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সকল ধরনের সহযোগীতা করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জে তালামীযে ইসলামিয়ার মীলাদুন্নবী (সা.) র‌্যালি অনুষ্ঠিত

কমলগঞ্জ,মৌলভীবাজার -কৃষ্ণা শর্মা। পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) শহস্রাধিক মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *