Breaking News
Home / জাতীয় / বন বিভাগের মুকুট হীন সম্রাট মোনায়েম,পেছনে রয়েছে অদৃশ্য শক্তি

বন বিভাগের মুকুট হীন সম্রাট মোনায়েম,পেছনে রয়েছে অদৃশ্য শক্তি

সৈয়দ ময়নুল ইসলাম রবিনঃ- স্টাফ রিপোর্টার।
বন বিভাগের মুকুট হীন সম্রাট হিসেবে সবার কাছে এক নামে পরিচিত সিলেট বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেনের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনের গাছ পাচারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভিযোগে তাকে অন্যত্র বদলি করা হলেও তার পেছনে রয়েছে অদৃশ্য শক্তি যার ফলে রহস্যজনক কারণে স্বপদে বহাল রয়েছেন বিতর্কিত এ রেঞ্জ কর্মকর্তা। এজন্যে সংরক্ষিত বনে বেড়েছে গাছ চুরি আর বন দখলের মহোৎসব।বন বিভাগ সূত্রে জানা গে্ছে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি রেঞ্জের চাউতলী বন বিট কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চালতলী বিট কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে তাহার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনের গাছ পাচারসহ নানা অভিযোগ উঠে।
তখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পরিবর্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করে বন বিভাগ।
বিট কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব পাওয়ায় বেড়ে যায় কর্মপরিধি।
প্রায় এক বছর ধরে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তাহিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ের মধ্যে বন রেঞ্জের লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও চাউতলী বনবিটের সংরক্ষিত বনে গাছ চুরির পাশাপাশি দখল হয়েছে বিশাল বিশাল টিলা। এ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাছ চুরি হয়েছে চালতলী ও লাউয়াছড়ার বাঘমারা ক্যাম্প এলাকার বনে। আর টিলা দখল হয়েছে কালাছড়া বনে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তার যোগসাজসে বনের গাছ পাচার আর টিলা দখলে সবচেয়ে বেশি লাভমান হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন।
স্থানীয়রা জানান,কালাছড়া বনে বেদখলকৃত জায়গায় লাগানো হয়েছে আনারস, লেবু বাগান। বনের বেদখলকৃত অনেক ভূমিতে তৈরি করা হয়েছে পাকা ও আধা পাকা বসতঘর।
বন বিভাগ সুত্রে জানা গেছে,
সম্প্রতি লাউয়াছড়া বনের বাঘমারা ক্যাম্প এলাকা থেকে এক রাতে ১২ বৃক্ষ কর্তনের ঘটনা ঘটে। আর চালতলী এলাকা থেকে গাছ পাচারের ঘটনা পাশাপাশি লাউয়াছড়া ডরমিটরি লেখ থেকে মাছ ধরে নেওয়ার ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা জড়িতের বিষয়ে খোদ বন বিভাগেই চলছে তোলপাড়।
এছাড়া লাউয়াছড়া উদ্যানের প্রবেশ মুখের গাছগুলোর সৌন্দর্যবর্ধের নামে নিজের ইচ্ছে মত অপরিকল্পিত ভাবে রংয়ের কাজ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য
লাউয়াছড়া, কালাছড়া,ও চাউতলী বনবিটের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ দিয়ে দীর্ঘ দিন পরিচালনা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্হাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন,এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যদি এ ধরনের কর্মকান্ডে কেউ জড়িত থাকেন তাহলে তদন্তক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় এ বন কর্মকর্তা বলেন, দুই একদিনের মধ্য তদন্ত টিম গঠন করে গুরুত্বের সঙ্গে
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে কমলগঞ্জে জাতীয় পতাকা উত্তোলন

আমিনুল ইসলাম হিমেল ॥৪৯তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারণে সরকারী ...