Breaking News
Home / কমলগঞ্জ / মেধাবী চা-শ্রমিক সন্তান গোপালের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে তো !

মেধাবী চা-শ্রমিক সন্তান গোপালের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে তো !

রাফি আহমদ রিপন,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

অদম্য মেধাবী মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের চা শ্রমিক গোপাল মান্দ্রাজী স্বপ্ন দেখে মেডিকেলে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা দিতে। কিন্তু মাতৃহীন হতদরিদ্র চা শ্রমিক পিতা যা আয় করেন, তাতে সংসারের চাকা সচল রাখাই কঠিন, সেখানে গোপাল মান্দ্রাজীর চিকিৎসক হওয়ার এই ইচ্ছা পূরণের সুযোগ কোথায়? কমলগঞ্জ উপজেলার ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে গোপাল। চা শ্রমিক সন্তানের এ সাফল্যে পাত্রখোলা চা বাগানের লোকজনও খুব খুশি। পাত্রখোলা চা বাগানের চা শ্রমিক আপলসামী মান্দ্রাজীর তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে গোপাল মান্দ্রাজী ৩য় সন্তান। গোপালের বড় ভাই একই বাগানে কাজ করে এবং ছোট দু‘ভাই ৫ম ও ৩য় শ্রেণীর ছাত্র। একমাত্র বোন এখনও স্কুলে ভর্তি হয়নি।

প্রায় ২ বছর পূর্বে গোপালের মা সেতামা মান্দ্রাজী দূরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে  সুচিকিৎসার অভাবে মারা যান। চিকিৎসার অভাবে মায়ের মৃতু্যৃর ঘটনাটি গোপালের হৃদয়কে তুমুলভাবে নাড়া দেয়। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে বড় হয়ে চিকিৎসক হবে। সাধারণ মানুষের সেবা করবে। চিকিৎসার অভাবে যেন তার মায়ের মতো আর কাউকে অকালে জীবন দিতে না হয়।

মাতৃহীন পরিবারে ছোটো এক ভাই ও এক বোনকে নিয়ে সকালের নাস্তা আর রাত্রের খাবারসহ সংসারের যাবতীয় কাজ করতে হতো তাদের নিজেদেরই। আর সে জন্য প্রতিদিনই স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হতো ভাই বোনের। শত ব্যস্ততা আর দরিদ্রতা তার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারেনি। নিজের চেষ্টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা আর পরামর্শে পড়াশুনা করে এসএসসিতে ভালো ফলাফল করেছে সে । বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পাওয়া গোপাল মান্দ্রাজী মেডিক্যালে লেখাপড়া করে একজন চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করতে চায়। চা শ্রমিক পিতা তাকে আর বেশীদূর পড়াতে চাচ্ছেন না দারিদ্রতার কারণে। তবে গোপালের অদম্য মনোবল মানুষের সহায়তা ও টিউশনী করে নিজের লেখাপড়ার খরচ বের করতে পারবে বলে রয়েছে তার আত্মবিশ্বাস।

গোপালের বাবা আপলসামী মান্দ্রাজী বলেন, খেয়ে না খেয়ে কোনরকম ছেলেকে এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়েছি। এখন গোপালের লেখাপড়ার খরচ নিয়ে তিনি চিন্তিত। তবে ছেলে নিজেই অদম্য বলে সে পরবর্তী লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চায়। কেউ মানবিক বিবেচনায় সহযোগিতার হাত বাড়ালে হয়তো বা তার ছেলের এ ইচ্ছে পূরণে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

পূজার আগে মজুরি বৃদ্ধি ও বোনাসের দাবিতে কমলগঞ্জে ২৩ চা বাগানে বিক্ষোভ-কমলগঞ্জ বার্তা

কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক, রিপোর্ট ॥  আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজার আগে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি ও উৎসব বোনাসের ...