Breaking News
Home / অর্থ ও বানিজ্য / শমশেরনগরে চা শ্রমিক সংঘের সভা অনুষ্টিত

শমশেরনগরে চা শ্রমিক সংঘের সভা অনুষ্টিত

রতন দত্ত।।
বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে নি¤œতম দৈনিক মজুরি ৬৭০ টাকা ঘোষণাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহŸান জানিয়েছে চা শ্রমিক সংঘ। রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরস্থ চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ দাবি জানানো হয়।
চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহŸায়ক রাজদেও কৈরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহŸায়ক হরিনারায়ন হাজরার সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি শহীদ সাগ্নিক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, ধ্রæবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ জেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা। সভায় বক্তব্য রাখেন নারায়ন নাইড়–, সুনীল কর, বিষ্ণু নায়েক, নারায়ন গোড়াইত, দোলন কর্ম্মকার, শ্যামল অলমিক প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাজার দরের উর্দ্বগতিতে যেখানে পেয়াজের কেজি ১২০ টাকা সেখানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১০২ টাকা। এ অবস্থায় পাঁচ, সাত সদস্যের শ্রমিক পরিবার কোন অবস্থাতেই চলতে পারে না। তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, গ্র্যাচুইটি, কোম্পানীর লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের পাওনা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। রেশনের নামে পার্মানেন্ট শ্রমিককে খাওয়ার অযোগ্য সাপ্তাহে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম চাল দেওয়া হয়। যা ক্ষেতের জমির (যাদের জমি আছে) খাজনার নামে কেটে নেওয়া হয়। ২৫ বিঘা পর্যন্ত ধানী জমির সরকারি খাজনা মওক‚ফ হলেও মালিকরা বেআইনী ও অবৈধভাবে কিয়ার (৩০ শতক) প্রতি ১১২ কেজি চাল হারে খাজনা আদায় করেন।
একজন শ্রমিকের দৈনিক একশ’ টাকা খাবারের হিসাবে ৬ সদস্যের একটি শ্রমিক পরিবারের জন্য দৈনিক মজুরি ৬৭০ টাকা ঘোষণাসহ সভায় ১১ দফা দাবিনামা তুলে ধরা হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি প্রদানে বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট প্রদান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি প্রদানে বেআইনী শর্ত বাতিল, কর্মে উপস্থিতির উপর নির্ভর করে উৎসব বোনাসের নামে উৎসাহ বোনাস দিয়ে শ্রমিক ঠকানো বন্ধ, চা শিল্পে শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, কোম্পানীর লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল ও অংশগ্রহণ তহবিল প্রদান, নৈমিত্তিক ছুটি বছরে ১০ দিন কার্যকর ও অর্জিত ছুটি প্রদানে বৈষম্যসহ শ্রম আইনের বৈষম্য নিরসন, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, চা ও রাবার শ্রমিকদের পর্ণাঙ্গ রেশন প্রদান,
চা-বাগানে বসবাসকারী শ্রমিকদের ভোগদখলকৃত ভ‚মির উপর স্বত্ব অধিকার, এম্বুলেন্স প্রদানসহ একজন এমবিবিএস ও একজন এমবিবিএস (প্রসুতি বিশেষঞ্জ) ডাক্তার, প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগ এবং শ্রীমঙ্গলে স্থায়ী শ্রম আদালত স্থাপনের দাবি জানান। সভাপতি রাজদেও কৈরি জানান, ১১ দফা দাবিনামা সম্বলিত আবেদন অচিরেই মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান এর কাছে প্রেরণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

পদবি বদলের দাবিতে কমলগঞ্জে কর্মবিরতি

 কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক, রিপোর্ট ॥ পদবি পরিবর্তন করে বেতনস্কেল উন্নীত করার দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ...