Breaking News
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / স্মরণ : কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ

স্মরণ : কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ

মোহাম্মদ মনির উদ্দিন :

উনত্রিশ মে গভীর রাত, একটা দশ মিনিটে হটাৎ সেলফোনে ক্ষুদেবার্তার শব্দ কানে বাজে।ফোন হাতে নিয়ে পড়তে থাকি।বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনোয়ার হোসেন সুমন বার্তাটি প্রেরণ করেন।গভীর রাতের বার্তা সাধারণত ভালো হয়না।হয়েছেও তাই।তিনি বার্তায় বাংলা ভাষায় উল্লেখ করেন-‘কমরেড গভীর শোকের সাথে জানাচ্ছি সিপিবি’র সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আমাদের প্রিয়নেতা ও অভিভাবক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ কিছুক্ষণ পূ্র্বে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন’।আমি ঘুমঘুম ভাবাস্থায় এই সংবাদ পড়ি।পাঠ করেই মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়।আমাদের জন্যে বড়ো দু:সংবাদই বটে!মেনে নিতে কষ্ট হয়!মৃত্যু!জীবন কেড়ে নেয়!সবারই শারীরিক জীবনাবসান হবে।এই সত্য বড়ো নিষ্ঠুর, নির্মম ও বেদনার।এর পরও মেনে নিতে হয়।একে একে চলে যাচ্ছেন।আগে কিংবা পরে।কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ অন্যদিন হয়তো অন্য কেউ।নিজেকে সামলে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইন ইন করি।মানব মুক্তির মহান আদর্শের,অন্তপ্রাণ আদর্শিক এই নেতার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন,অনেকেই।মৃত্যু সংবাদ নিয়ে যারা লিখেছেন,সেইগুলো পড়তে থাকি।কষ্টকাতর মনে ভাবতে থাকি।আহারে জীবন!মানব জীবন!এতো কম সময়ের মানবজীবন!জীবন আরও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হোক।সকল মানুষের।বিজ্ঞানের অগ্রসরতায় হয়তো একদিন অনেক কিছুই সম্ভব হবে।হয়তো মরণকেও চিকিৎসা বিজ্ঞান জয় করবে।সৈয়দ আবু জাফর আহমদ তাঁর এই স্বল্পজীবন,মানব মুক্তির মহান আদর্শে আজীবন অবিচল রেখেছেন।পুরো জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।এই জীবন কতজনের হয়?আজীবন কতজনেইবা পারে।তিনি পেরেছেন।জীবন বিশ্লেষণে,তাঁর জীবন সার্থক।আদর্শিক অবস্থান থেকে তিনি সফল এক রাজনীতিক।প্রিয়নেতা তোমাকে অভিবাদন ও লাল সালাম!

শেষবিদায় ও শ্রদ্ধা জানাতে বাসযোগে সিলেটের নাইওরপুল পয়েন্ট থেকে মৌলভীবাজারে সিলেটের প্রগতিশীল অঙ্গনের লোকজনকে নিয়ে রওয়ানা দেই।সিলেট থেকে ০১জুন,শনিবার সকাল ১১টার পূর্বে মৌলভীবাজার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কার্যালয়ে পৌঁছি।মৃত্যু পরবর্তী আনুষঙ্গিক আনুষ্ঠনিকতা সম্পন্ন করে সিলেট ফিরে আসি।দৈহিকভাবে চলে যাওয়া মার্সকবাদী তাত্ত্বিক,সরাসরি গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ত এমন নেতা সিলেট অঞ্চল তথা সমগ্র বাংলাদেশে খুবই অভাব।বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদের মতো সাচ্চা কমিউনিস্ট নেতার বড়ই প্রয়োজন।

সৈয়দ আবু জাফর আহমদ ২৮মে,২০১৯ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।সকাল ১০টায় কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয়।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে লাশবাহী গাড়ি মৌলভীবাজার আসে।পরিবারের লোকজন দেশের বাইরে থেকে আসবেন বলে,লাশ হিমাগারে রাখা হয়।০১জুন, শনিবার সকাল ১০টায় মরদেহ তাঁর বাসভবনে আনা হয়।১১টায় মৌলভীবাজার জেলা কমিউনিস্ট পার্টি অফিসে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও শহরে শোকরেলি শেষে বেলা ১১টা-০১টা ৩০মিনিট পর্যন্ত শবদেহ শহীদ মিনারে রাখা হয়।মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনসাধারণ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।বেলা ০২টায় মৌলভীবাজার শাহ মোস্তফা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জানাজা শেষে,আনুষঙ্গিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সিলেট ফিরলেও প্রিয় এই নেতাকে ভুলতে পারিনি।

মৃত্যুর পর আমাদের এই প্রিয়নেতার সম্পর্কে অনেক তথ্য জানলাম।তাকে পাঠ করলে আরও অজানা অজানা অনেক কিছুই জানা যাবে।কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ আজীবন সাম্যবাদী আন্দোলনের এক লড়াকু জননেতা ছিলেন।সারাজীবন মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্যে কাজ করেছেন,লড়াই করেছেন।আদর্শের সংগ্রামে তৎপর ছিলেন।আপস করেন নি,মাথানত করেননি।ব্যক্তিগত লাভালাভের জন্যে আদর্শচ্যুত হননি।মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের এই খাঁটিনেতা ১৯৫৪ সালের ১১জুলাই মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।বাবা সৈয়দ মনোয়ার আলী এবং মা সৈয়দা আমিরুন্নেসা খাতুন।ছাত্রাবস্থায় তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সাথে সম্পৃক্ত হন।নেতৃত্ব দেন।তিনি ১৯৭০সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক,পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।দেশমাতৃকার টানে ১৯৭১সালে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাত্র ১৬বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ ‘গেরিলা’ বাহিনীর একজন সম্মুখ সমরের অকুতভয় যোদ্ধা হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।তাঁর মতো দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের কারণেই আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ।বাংলাদেশে আজ ধনী-গরীবের বৈষম্য।অবাধে লুটপাট চলছে।নিশ্চয় এমনটি কেউই চায়নি।সৈয়দ আবু জাফর আহমদও চাননি।একারণেই শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন।ছোটবেলা থেকেই বোঝতে পেরেছিলেন,সমাজতন্ত্র কায়েমের নিয়ামক শক্তি হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণি।ফলে শ্রমিকশ্রেণির স্বার্থকে বড়ো মনে করতেন।এর প্রমাণ পাওয়া যায়,চা-বাগানের শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলে যান।১৯৭২ সালে তিনি প্রথম কারাভোগ করেন।এক সময় জেল থেকে মুক্ত হন।১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুনরায় গ্রেফতার হন।পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে বিনাবিচারে দীর্ঘ ০১বছর কারা প্রকোষ্ঠে থাকেন।

সৈয়দ আবু জাফর আহমদ দর্শন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।একই বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্যে তিনি ১৯৭৯সালে জার্মানিতে যান।শেষে যথারীতি জার্মানি থেকে দেশে চলে আসেন।মানবমুক্তির লড়াইয়ে তিনি নিজেকে নিবেদিত করে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে জীবনভর নিজেকে সমর্পিত রেখেছিলেন।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন-সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।ফলে স্বৈরশাসকের রোষানলে পড়ে কয়েকবার গ্রেফতার হন।কারাবরণ করেন।নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন।১৯৯০সালে থেকে মৌলভীবাজারের অধুনালুপ্ত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক মনুবার্তা পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।গণমানুষের মুক্তি ও চেতনাগত পরিবর্তনের জন্যে আজীবন কাজ করেছেন।অর্থাৎ রাজপথ ও আদর্শিক লেখার মাধ্যমে সমান ক্রিয়াশীল ছিলেন।তিনি ২০১২ সালের ১১ থেকে ১৩ অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় দশম কংগ্রেসে সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।পরে আবারও ২০১৬ সালে ২৮-৩১ অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির একাদশ কংগ্রেসে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৭ সালের ২৬-২৮মে অনুষ্ঠেয় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় তাঁর অনুরোধের পরিপ্রক্ষিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে,তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে যতোদিন ছিলেন,ততোদিন যথাযথভাবেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।তিনি আমৃত্যু সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারা দেশে তাঁর বিচরণ ছিলো,পরিচিতি ছিলো।সিলেট অঞ্চলে বাড়ি হওয়ায় এ অঞ্চলের পার্টি নেতা-কর্মীরা তাঁর সান্নিধ্য সবচেয়ে বেশি পেয়েছিলেন।সিলেট অঞ্চলের যেকোনো সমস্যা,সংকট কিংবা গণস্বার্থে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন।তত্ত্ব ও মাঠের রাজনীতিতে তিনি অনন্যসাধারণ এক রাজনৈতিক ছিলেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নে যুক্ত থাকার কারণে,ছাত্রাবস্থাতেই ১৯৯৭ সাল থেকে তাঁর তাত্ত্বিক ও বাস্তবসম্মত বক্তৃতা শোনে বারবার মুগ্ধ ও বিমোহিত হয়েছি।আদর্শবাদী প্রগতিশীল রাজনীতিতে নিজেকে সমর্পণ করতে বারবার অনুপ্রাণিত হয়েছি।তাঁর মতো দৃঢ়চেতা নেতা আমি কমই দেখেছি।উম্মুক্ত সভায় তাঁর বক্তৃতা অগুনিত শুনেছি।ঘরোয়া বৈঠকেও শুনেছি।আমি কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট জেলা কমিটির সদস্য থাকাকালীন কয়েকবার জেলা কমিটির সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন।তখন কথাবার্তা থেকে অনুধাবন করেছিলাম,কতো বড়ো মাপের রাজনীতিবিদ তিনি।

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপেজেলার টেংরাটিলায় বহুজাতিক কোম্পানি নাইকো ২০০৫ সালে গ্যাস কুপ খননে অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে ০৭জানুয়ারি ও ২৪জুন পরপর দুই দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।এতে দেশের গ্যাস সম্পদ ও গ্যাস ফিল্ড এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।এই বিপর্যয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলা টেংরাটিলার গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় একটি প্রতিবাদী কর্মসূচি আহবান করে।গ্যাসক্ষেত্রের অনতিদুরে ‘আমবাড়ী’ এলাকায় আমার বাড়ি।সঙ্গত কারণেই এই কর্মসূচি সফল ও কার্যকর করতে আমার আগ্রহ একটু বেশি।কর্মসূচিতে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদারের নেতৃত্বে কর্মসূচিকে দৃশ্যমান,সফল ও কার্যকর করার জন্যে কাজ শুরু হয়।এই কাজে কমরেড আনোয়ার হোসেন সুমন,কমরেড এনাম আহমেদ এবং আমি যুক্ত হই।টেংরাটিলার আশপাশ আমবাড়ী, কাটাখালী, মোহব্বতপুরবাজার দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন স্থানে কমরেড অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদারের নেতৃত্বে আমরা কাজ করি।এই জনসভার যোগ দিতে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদকে নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট জেলা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি কমরেড বাদল কর,বজলুল হালীম বিদ্রাহী আবির এবং আমিসহ সিলেট থেকে অন্যান্যরা সাথে ছিলেন।টেংরাটিলায় তখন যাতায়াত খুবই কষ্টসাধ্য ছিলো।সিলেট থেকে ঢাকা যেতে যতটুকু সময় লাগতো, টেংরাটিলায় যেতে প্রায় ততটুকুই সময় ব্যয় হতো।আমরা প্রয়াত দুই কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ ও বাদল করকে নিয়ে খুবই কষ্টেসৃষ্টে প্রতিবাদী জনসভায় হাজির হই।জাতীয় সম্পদ পুড়ে ছারখার এবং গ্যাসক্ষেত্র এলাকার আশপাশের বিপুল সংখ্যক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের উপস্থিতিতে কমিউনিস্ট পার্টির জনসভা শুরু হয়।পালাক্রমে বক্তৃতা চলতে থাকে।জনতা নীরব থেকেই শুনতে থাকেন।অবশেষে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ বক্তৃতা দেন।মানুষ গভীর মনোযোগ দিয়ে ঐদিনের পুরো বক্তব্য শুনে।দীর্ঘ সময় তিনি বক্তৃতা করেন।সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কোন শব্দচয়ন,কোন ভাষায় বক্তৃতা করতে হয়,তিনি তা জানতেন।ঐদিন টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের পাশে সৈয়দ আবু জাফর আহমদ অসাধারণ এক বক্তৃতায় সাধারণ জনতা বোঝতে পেরেছিলো।আমিও তাঁর এই অসাধারণ এক বক্তৃতায় নিজের এলাকায় পুলকিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।আজও এই স্মৃতি ভাসছে,মনে থাকবে জীবনভর।

কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ’র প্রয়াণ দিবস আজ ।তিনি শারীরিকভাবে হয়তো,আমাদের মাঝে অনুপস্থিত।তাঁর চিন্তা,কর্ম,স্মৃতি এবং মানব মুক্তির মহান আদর্শ বিদ্যমান রয়েছে।এসবে নিবেদিত হয়ে,নিজেকে প্রকৃত অর্থে সমর্পিত করে শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করতে পারলেই তাঁর প্রয়াণের দিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো যথার্থ হবে।প্রিয় কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ,লাল সালাম!

__________________________________________

লেখক:প্রাক্তন সদস্য,বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট জেলা কমিটি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

করোনা যুদ্ধের একজন মহা সমরনায়ক ডা: জাফর উল্লাহ চৌধুরী

কমলগঞ্জ বার্তা ডেক্স ।। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডাক্তার মোঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরীর নাম আমরা সকলেই ...