Breaking News
Home / আলোচিত খবর / শ্রীমঙ্গলের রমেশ গৌড়ের সপ্তবর্ণের চা ও এর তৈরীর সাতকাহান ।।

শ্রীমঙ্গলের রমেশ গৌড়ের সপ্তবর্ণের চা ও এর তৈরীর সাতকাহান ।।

বিশ্বজিৎ রায় # পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের যারা বেড়াতে আসেন তাদের কেউ শ্রীমঙ্গলের রমেশ রাম গৌড় এর সাত লেয়ারের চায়ের স্বাদ নিতে ভুলে গেছেন এমন কথা কমই শোনা যায়। এমনকি শ্রীমঙ্গলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভোলেননি সাতরঙা চায়ের উদ্ভাবক রমেশের চা পান করতে। এ চা জিভে জলের বদলে বিস্ময় জাগায় বেশি।

উল্লেখ্য, ময়মনসিং জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান রমেশ রামগৌড় । বৃহৎ কোন পুঁজি না থাকায় তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার আটানিবাজারে অপর এক ভ্যাক্তির সাথে যৌথভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায় নেমেছিলেন । কিন্তু অংশীদার ব্যাবসার পুঁজির পুরো টাকাটাই আত্মসাৎ করে নেয়।অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।

দরিদ্র রমেশ রামগৌড় নিজের ভাগ্য বদলের জন্য ২০০০ সালের মার্চ মাসের স্ত্রীসহ, তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও ভাইকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলে চলে আসেন তিনি। সঙ্গে ছিল মাত্র দেড় হাজার টাকা। এখানে এসে রামনগর মণিপুরী বস্তিতে অল্প টাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চাকরি নেন।সেখানে কিছুদিন থাকার পর

চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ২০০১ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফিনলে টি কোম্পানির কাকিয়াছড়া  চা বাগানে নিজস্ব একটি চায়ের দোকান দেন । এই দোকান থেকে যা আয় হতো তা দিয়ে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সংসার নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়ে রমেশের। ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকেই প্রথমে একই গ্লাসে একাধিক স্তরের (দুই-রঙা)  চা আবিস্কার করে হৈচৈ ফেলে দেন রমেশ। এটা হলো ২০০২ সালের কথা । এরপর সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে তিনি নিজে গবেষণা করে তার চায়ের স্তর বাড়তে শুরু করেন। এ পর্যন্ত তার আবিস্কৃত চায়ের কাপ সাত কালারের সাত স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে। যা সাত রংয়ের চা হিসেবে স্বীকৃত।

পর্যটন উপজেলা খ্যাত শ্রীমঙ্গলে এসে রমেশের সাতরংয়ের চায়ের স্বাদ আস্বাদন করেন নি এমন ভ্রমনার্থী হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবেনা। প্রচার মাধ্যমের বদৌলতে রমেশের সাতরংয়ের চা পরিচিত হয়ে উঠেছে বহির্বিশ্বেও। রমেশের রাম গৌড়ের সুনাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে। ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে চাকুরির প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি । চাহিদা বৃদ্ধির কারনে রমেশ শহরতলীর কালীঘাট সড়কে ১৪ বিজিবি’র ক্যান্টিনে স্থানান্তরিত করেছেন তার চায়ের দোকান। দোকানে ভীড় লেগে থাকে সব সময়। বর্তমানে নীলকণ্ঠ চা কেবিন নামে তার যে দুইটি দোকান রয়েছে সেখানে বর্তমানে ‘নীলকন্ঠ’ ক্যাবিনে সাত লেয়ারের চা ৭০ টাকা, ছয় লেয়ারের চা ৬০ টাকা, পাঁচ লেয়ারের চা ৫০ টাকা, চার লেয়ারের চা ৪০ টাকা, তিন লেয়ারের চা ২০ টাকা, দুই লেয়ারের চা ১০ টাকা, হাই স্পেশাল চা ২০ টাকা, স্পেশাল দুধ ১০ টাকা, গ্রীন চা ৫ টাকা, আদা চা ৫ টাকা, লাল চা ৫ টাকা, লেবু চা ৫ টাকা ও লেবু চা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমেশ রাম গৌড় জানান, ক্লোন টি ও বিভিন্ন ধরনের মসলার সংমিশ্রণে তৈরী এ চা তার প্রত্যেকটি দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ কাপ চা বিক্রি হয়। এ থেকে উপার্জিত অর্থে এসেছে তার পরিবারে স্বচ্ছলতা। রমেশও পেয়েছেন খ্যাতি। সরকারকেও নিয়মিত ভ্যাট দেন তিনি।

প্রায় এক যুগ ধরে সপ্তবর্ণের ওই চা বানিয়ে যাচ্ছেন রমেশ রাম গৌড় (৪২)। ইদানিং যদিও রমেশের রহস্য ভেঙে দেশের আরো দু’এক জায়গায় তৈরি হয় সাতরঙা চা। ভিন্ন সাতটি স্তরে সাজানো এ চা এখনও একটি রহস্য।স্বচ্ছ কাচের গ্লাস। চামচ দিয়ে না ঘুটে যতই নাড়াচাড়া করুন এক স্তর আরেক স্তরে মিশবে না। যিনি প্রথম বিষয়টি দেখবেন তার কাছে এটি চা ভাবতেই কষ্ট হবে। আর যিনি দেখেছেন আগেও, নিয়েছেন স্বাদ, তিনি ভাববেন এটা কীভাবে সম্ভব যদি জানতে পারতাম !

আসুন জেনে নিই কিভাবে সাতকালারের চা তৈরী করা হয়—

প্রথমে ১ টেবিল চামচ চিনির সাথে ২ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে সিরা করে নিতে হবে। পরিমাণমতো পানি এবং চা’পাতা চুলায় জ্বাল দিয়ে লিকার তৈরি করে নিন। ১ টেবিল চামচ লিকার ও ১ চামচ সিরা মিশিয়ে রাখুন। তারপর ২ টেবিল চামচ কনডেন্স মিল্কের সাথে ১ টেবিল চামচ লিকার মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর একটা কাপে প্রথমে প্লেইন সিরা ঢেলে নিয়ে ২০ সেকেন্ড পরে সিরা মেলানো লিকারটা দিতে হবে। এর ৩০ সেকেন্ড পরে কনডেন্স মিল্কের মিশ্রণ দিতে হবে। তার ১ মিনিট পর বাকি লিকারটুকু গরম করে একদম কাপের ধার ঘেঁষে আস্তে আস্তে ঢালতে হবে। দেখুন সহজেই তৈরি ৭ লেয়ার চা।

যেভাবে যাবেন নীলকন্ঠ কেবিনে চা খেতে—-

ঢাকা থেকে সায়েদাবাদ অথবা ফকিরাপুল থেকে হানিফ বাস গাড়ীতে ৩৮০ টাকায় বাসে চড়ে শ্রীমঙ্গল শহরে নামতে পারবেন। অথবা ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাতে সিলেট গামী আন্ত:নগর উপবন ট্রেন, ভোর সকালে পারাবত ট্রেন, দুপুর ২টার দিকে আন্ত:নগর জয়ন্তিকা ট্রেন ও বিকাল ৪টার দিকে আন্ত:নগর কালনী ট্রেনে শ্রীমঙ্গল আসতে পারবেন।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকশা নিয়ে কালিঘাট রোডের কিছুদূর গেলেই দেখতে পাবেন বড় সাইনবোর্ডে লেখা ‘নীলকণ্ঠ’। ভাড়া নেবে ১০-১৫ টাকা। নিরিবিলি ও খোলামেলা জায়গায় ভেতরে বা বাইরে বসে চা পান করতে পারবেন। দ্বিতীয়টি একই সড়ক ধরে গেলে রামনগরে অবস্থিত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

সামাজিক সংগঠন হৃদয়ে কমলগঞ্জ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত-কমলগঞ্জ বার্তা

কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক, রিপোর্ট ॥ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে কমলগঞ্জে সামাজিক সংগঠন হৃদয়ে কমলগঞ্জ এর প্রথম ...