Breaking News
Home / কমলগঞ্জ / কমলগঞ্জের ইসলাম পুরে ধলাই নদীর বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবী-কমলগঞ্জ বার্তা

কমলগঞ্জের ইসলাম পুরে ধলাই নদীর বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবী-কমলগঞ্জ বার্তা

মোঃ মালিক মিয়া,কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার॥

কমলগঞ্জ বাসির একমাত্র দুঃখ হচ্ছে এই ধলাই নদী। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ৯ নং ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মোকাবিলা গ্রাম।
উপজেলার সীমান্তবর্তী এ গ্রাম এলাকা হয়ে ধলাই নদীর প্রায় ৫০০ ফিটের অধিক বেরিবাধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে বহুদিন যাবৎ। এ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাধের ২ ফুটের বাকি অংশ ছাড়া ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে । এছাড়াও এ এলাকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ’টি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অর্ধেকাংশ তলদেশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে মসজিদটি ঝুঁকিপূর হয়ে রয়েছে।

বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও এতদিনে মেরামত কাজ না হওয়াতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আর হতাশায় দিন কাটছে ভারত সীমান্তবর্তী মোকাবিল (বিওপি) সংলগ্ন গ্রাম ও আশপাশ এলাকাবাসীর। মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গোষ্ঠী ভুক্ত এই এলাকায় গত (৫ জুন রোজ শুক্রবার) বিকেলে সরোজনি গিয়ে জানা যায় বিগত ৩ বছর আগে আর,সি,সি,ব্লক দিয়ে বাঁধের কিছু অংশ মেরামত করা হয় যা বর্তমানে প্রবল পানির স্রোতে নদীতেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পাশে প্রায় পাঁচ শ ফিটের অধিক বাধ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভাঙ্গন সৃষ্টি হতে পারে ভাঙ্গন সৃষ্টি হলে দক্ষিণ অঞ্চল সহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানাযায়। মসজিদ থেকে এক দশক আগে ঠিক ৫০ মিটার দূরে নদীর অবস্থান ছিল। এক দশকধরে নদীটি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বর্তমান মসজিদটি প্রায় অর্ধেক নদী গর্ভে বিলীন। মসজিদের মতোয়াল্লী সাবেক মেম্বার ফজলুর রহমান বলেন,বছরের পর বছর পদক্ষেপ না নেওয়া কারণে আজকে এই মসজিদটির দক্ষিণাংশে অর্ধেক বিলীন হাওয়ার কারণে স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজের জন্য এখন কোথায় যাবেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিনাল কান্তি সিনহা এ প্রতিনিধিকে বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি ভাঙনে মসজিদটি প্রায় অর্ধেক বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে এলাকাবাসী। তিনি আরো বলেন, মসজিদ সহ এলাকায় কয়েকটি স্থানে পূর্বে থেকে এই বাঁধে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা ছিল। জরুরি ভিত্তিতে এলাকার আত্মরক্ষার্থে আমরা বিভিন্ন সময় উপরমহলে রিপোর্ট পাঠাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন বেশ কয়েকবার। তবে কী করণে এখানকার সমস্যায় পদক্ষেপ নেননা সেটি বলতে পারছিনা বর্তমানে যেভাবে বাঁধ ভেঙ্গেছে যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে আশেপাশের বহু এলাকা তলিয়ে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, সীমান্ত জটিলতার কারণে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের অংশে বোল্ডার রিভডিং পাথর গ্রোয়েন ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে নদী সংরক্ষণ কাজ তিন বছরের মধ্যে সমাপ্ত করার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডিম তালে কাজ করার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে এলাকাটি। তিনি আরো বলেন ইতিমধ্যে চারটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো ২০ টির মত বাড়ি যে কোন সময় ভাঙ্গন রোধ না করতে পারলে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আমার কথা হয়েছে ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাউবো মৌলভীবাজারের সহকারি প্রকৌশলী শাকির আহমেদ জানান, আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করেছি দুই দেশের সীমান্ত জটিলতার কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না আমরা উপর মহলে এটা জানিয়েছি দু’দেশের সীমান্ত জটিলতা শেষ হলে কাজ শুরু করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কর্তৃক তদারকি অভিযান-কমলগঞ্জ বার্তা

আমিনুল ইসলাম হিমেল ॥ কমলগঞ্জে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ...