Breaking News
Home / কমলগঞ্জ / # কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানে অসহায় চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবায় টেলিমেডিসিন সেন্টার #

# কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানে অসহায় চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবায় টেলিমেডিসিন সেন্টার #

কমলগঞ্জ বার্তা বিপোর্ট :: মৌলভীবাজারের দুর্গম পাহাড়ি চা বাগান এলাকায় সু-চিকিৎসা আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সাধারন চা শ্রমিকরা নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। জেলা সদর মৌলভীবাজার বা বিভাগীয় শহর সিলেটে যাওয়া সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। চিকিৎসা আর অর্থের অভাবে অসহায় চা শ্রমকি রোগীরা বিশেষ করে নারী চা শ্রমিকরা মৃত্যুবরণ করছেন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানে চা শ্রমিক সন্তাানদের সংগঠন জাগরণ যুব ফোরামের তাদের আইসিটি সেন্টারে প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে দুই দিনে শতাধিক অসহায় চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

বুধবার ২০ জুন শমশেরনগর চা বাগানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি মোহন রবিদাসের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার ও বুধবারের জন্য জাগরণ আইসিটি সেন্টারে টেলিমেডিসিন সেন্টার চালু করা হয়েছিল। দুই দিনে শতাধিক শমশেরনগর চা বাগানের নারী-পুরুষ চা শ্রমিক ও কিশোর-কিশোরিরা দেশী বিদেশী ১৬ জন বিশিষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যা তুলে ধরে। চিকিৎসকরা সমস্যা শুনে চিকিৎসা সেবার পরামর্শ প্রদান করেন।

অসহায় অনগ্রসর চা শ্রমিকদের কাছে কম্পিউটার,ইন্টারনেট ও বিশেষ ধরনের সফটওয়ার ছিল এক অজানা বিষয়। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত মঙ্গলবার ও বুধবার টেলিকন্ফারেন্সে জাগরণ আইসিটি সেন্টারের সাথে যুক্ত হন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তার আগে উৎসক ও সেবা গ্রহনকারী চা শ্রমিকরা চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে এ সেন্টারে। চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ঘরে বসেই চা শ্রমিকরা সিলেট, ঢাকা, ভারত ও আমেরিকার ১৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে তাদের সমস্যার কথা বলে স্বাস্থ্য সেবার পরামর্শ গ্রহন করেছেন। অবশ্য এ জন্য রোগীর সাথে সার্বক্ষনিক স্থানীয় একজন মেডিক্যাল স্টাফ উপস্থিত থেকে রোগীর জ্বর, রক্তচাপ মেপে দূরবর্তী স্থানের চিকিৎসকের কাছে পৌছে দিয়েছেন ও চিকিৎসকের পরামর্শ লিপিবদ্ধ করে লিখেছেন। আর এ কাজে সহায়তাও করেছে শমশেরনগর চা বাগান হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এজন্য কোন রোগীকে ফি প্রদান করতেও হয়নি। বিষয়টি চা বাগানের জন্য যুগান্তকারী একটি উদ্যোগ বলে সবাই মনে করেন।

শমশেরনগর চা বাগানে টেলিমেডিসিন সেন্টার করে বাস্তবায়নে সার্বিকভাবে কাজ করেছেন গণ-স্বাস্থ্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঢাকার ডা: নাজমুল ইসলাম, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডা: রুবেল আহমেদ, গাজীপুরের তাহিরুননেছা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডা: প্রিয়তোষ সূত্র ধর, ঢাকার ডা: ইসরাত জাহান লামিয়া, জাগরণ আইসিটি সেন্টারের রঞ্জিত রবিদাস ও রাজকুমার রবিদাস প্রমুখ।

মূল উদ্যোক্তা জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা গ্রহনকারী মোহন রবিদাস বলেন, চা বাগানে ছোট একটি হাসপাতালে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবা দিলেও তা অপর্যাপ্ত। এখানে নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। অতি সম্প্রতি জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে এ চা বাগানের এক নারী চা শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তিনি টেলি কন্ফারেন্সের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে সরাসরি রোগীর কথা বলিয়ে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। গত দ্ ুদিনে চা শ্রমিকদের মাঝে যে সাড়া তিনি পেয়েছেন তাতে আগামীতে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও চায় জাগরণ যুব ফোরাম বলে তিনি জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক দুটি চা বাগানে দুই প্রতিবন্ধী গৃহ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

আমিনুল ইসলাম হিমেল ॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নের শমশেরনগর  ও আলীনগর চা বাগানে দুই ...