Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / কাতারে রাস্তায় থুথু ফেললে ৫০০ রিয়াল জরিমানা

কাতারে রাস্তায় থুথু ফেললে ৫০০ রিয়াল জরিমানা

কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক,রিপোর্ট :
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কাতারে নতুন পরিচ্ছন্নতা আইন কার্যকর হচ্ছে। এদিন থেকে আইনটি কার্যকর করতে মাঠে থাকবে কাতারের পৌরসভা ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ দল। এই দলের সদস্য ও পর্যবেক্ষকেরা নির্বাহী বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। নতুন আইনে কাতারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং সব ধরনের জীবাণু থেকে জনজীবন ও পরিবেশ মুক্ত রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবেশদূষণ বা অপরিচ্ছন্ন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে আর্থিক জরিমানা ও কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে অপরাধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে। পৌরসভা ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান সাফার আল শাফি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দিয়ে আরও জানান, একটি পর্যবেক্ষক দল আইন ভঙ্গকারী সব ধরনের কার্যক্রম তদারকি ও সতর্কবার্তা প্রদান এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত শাস্তি ঘোষণা করবে। নতুন আইনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিবেশদূষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন ৩০০ রিয়াল থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া দায়ী ব্যক্তি আচরণ পরিবর্তনে ব্যর্থ হলে এক বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা অথবা ছয় মাস কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ হাজার রিয়াল জরিমানার মুখোমুখি হবেন।
কাতারের পৌরসভা ও পরিবেশমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল রুমাইহি এ লক্ষ্যে বেশ আগে নির্দেশনা জারি করে রেখেছেন। মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ, পৌরসভা ও আইন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে তদারকি দল। এ ছাড়া আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়। ওই কর্মশালায় মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য বিধির খসড়া প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা এই নতুন আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কর্মশালায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের মন্তব্যের ভিত্তিতে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহরে বর্জ্য পরিবহনের জন্য নির্ধারিত সময়, গন্তব্যস্থলসহ অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করা হয় এ অনুষ্ঠানে। কর্মশালায় জানানো হয়, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুরোনো ধারা পরিবর্তন করে নতুন আইনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য তা যুগোপযোগী করা হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতাপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকেরা আইন অমান্যের কোনো ঘটনা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জনগণ ও নগরের অধিবাসীদের সরাসরি সহায়তা ছাড়া নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা অসম্ভব। তাই এই আইন সম্পর্কে প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অনলাইনে বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক নির্দেশনা ও তথ্য প্রচার অব্যাহত রেখেছে।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী বিচারিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকেরা কর্মশালায় আইন অমান্যের ঘটনা শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নেন। এই পর্যবেক্ষকেরা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিরাপদ থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবেন।
জাতীয় পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান সাফার আল শাফি বলেন, কাতারে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে। সব ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। ফলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে যুগের চাহিদা মেটাতে নতুন আইনটি কার্যকর হবে। তিনি বলেন, নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রচলিত আইনের মূল উদ্দেশ্য বহাল রেখে নতুন আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কাতারের সংস্কৃতি ও জনজীবন ধীরে ধীরে বৈচিত্র্যময় আকার ধারণ করছে। বহু দেশের বহু মত ও বহু বর্ণের সম্মিলনে কাতারের সামাজিক জীবন বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে। কাতারে বর্তমানে বিক্ষিপ্তভাবে যত্রতত্র ছড়ানো বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য গণপরিচ্ছন্নতা বিভাগকে আলাদাভাবে কাজ করতে হয়। নতুন আইন কার্যকর হলে এই সমস্যা আর থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই আইনের একটি ধারার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবাণু থেকে নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আর পরিবেশ নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হলে আর্থিক জরিমানা ও কারাদণ্ড দুটোর বিধানই রাখা হয়েছে। এসব ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। ২০৩০ সালের জাতীয় পরিকল্পনার আলোকে পরিবেশ ও নগর মন্ত্রণালয়ের গবেষকেরা স্বাস্থ্যনিরাপত্তা ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে একটি বাস্তবসম্মত ও ভবিষ্যতের উপযোগী আইন বাস্তবায়ন করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদভাবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবেন পরিবেশ ও পৌরসভা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শকেরা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিবেশ দূষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন ৩০০ রিয়াল থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশদূষণের উৎস সরিয়ে ফেলতে হবে।
আইনের ১৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পরিবেশদূষণ অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দায়ী ব্যক্তি আচরণ পরিবর্তনে ব্যর্থ হলে এক বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা অথবা ছয় মাস কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ হাজার রিয়াল জরিমানার মুখোমুখি হবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

আউশের বাম্পার ফলনে কমলগঞ্জের কৃষকরা খুশি-কমলগঞ্জ বার্তা

কমলগঞ্জ বার্তা রিপোর্ট ॥ এক সময়ের বৃহত্তর সিলেটের শস্যভান্ডার খ্যাত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে ...