Breaking News
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / ঈদে পর্যটকশূন্য লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেকে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য

ঈদে পর্যটকশূন্য লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেকে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য

কমলগঞ্জ বার্তা ডেক্স ।।

প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের ঢল নামলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে এবার ঈদে পর্যটকশূন্য রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এছাড়া স্বাস্থ্য বিধি না মেনে সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে মাধবপুর চা বাগান লেকে দেখা গেছে পর্যটকদের প্রচুর যাতায়াত।

শহুরে জীবন থেকে বাইরে এসে প্রকৃতির একটু ছোঁয়া পেতে পর্যটকরা ঈদের ছুটিতে ভিড় জমাতেন কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর চা বাগান লেক, হামহাম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে।

ঈদের দিন ও পরের কয়েকদিন কয়েক হাজার পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠতো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তবে এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করায় ঈদুল ফিতরে পর্যটকশূন্য রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

সোমবার ঈদের দিন দুপুরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, টিকেট কাউন্টারসহ প্রবেশ ফটকে তালা ঝুলছে। ভিতরে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় পর্যটকশূন্য উদ্যান যেন হাহাকার করছে। তবে বানর, লজ্জাবতী বানর, চশমাপরা বানরদের আপন মনে গাছে গাছে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এছাড়া নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত পুরো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শুধু পর্যটক নেই।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ইকো ট্যুর গাইড শেখর দে বলেন, ঈদের ২ মাস আগ থেকেই এখানে ভ্রমণে পর্যটকরা ফোন দিতেন। কেউ কেউ বিকাশে গাইড ফি হিসেবে অগ্রীম বুকিং দিয়েও রাখতেন। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত কোন ফোন আসেনি।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ২ মাস ধরে এ উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশাধীকার বন্ধ রয়েছে।

তবে সোমবার (ঈদের দিন) বেলা ২টায় মাধবপুর চা বাগান লেকে গিয়ে দেখা যায় সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নারী-পুরুষ ও শিশুর সমন্বয়ে প্রচুর পর্যটক প্রবেশ করছেন মাধবপুর চা বাগান লেকে। আবার লেকের ভিতরে দল বেধে উঁচু নিচু চা প্লান্টেশন টিলা ঘুরে বেড়িয়ে আবার ফিরে যাচ্ছেন। মাধবপুর লেকে প্রবেশের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে চা কারখানার সামনের গেইটে পর্যটকদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোটরযান আটকিয়ে দিলেও পর্যটকদের পায়ে হেঁটে লেকে প্রবশে করতে দেখা যায়।

মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, এ সময়ে লেকে পর্যটকদের নিষেধ থাকলেও প্রবেশে তারা কোন নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। তারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে জোর করে লেকে প্রবেশ করছেন বলে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন- খবর পেয়ে মাধবপুর লেকে পুলিশের একটি দল পাঠিয়ে সেখান থেকে পর্যটকদের বের করে দেয়া হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এ সময়ে পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ কোনভাবেই মানা যাবে না। আর দলবেধে এভাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে ঘুরে বেড়ানোর কোন সুযোগ দেওয়া যাবে না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে  কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে ।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কর্তৃক তদারকি অভিযান-কমলগঞ্জ বার্তা

আমিনুল ইসলাম হিমেল ॥ কমলগঞ্জে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ...