Breaking News
Home / কমলগঞ্জ / ফসল রক্ষায় কৃষকের রাত জেগে ধান পাহারা-কমলগঞ্জ বার্তা

ফসল রক্ষায় কৃষকের রাত জেগে ধান পাহারা-কমলগঞ্জ বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার॥ কমলগঞ্জে বুনো শূকরের হানায় নষ্ট হয়েছে প্রায় এক হাজার একর জমির আমন ও সবজিখেত। এক মাস ধরে উপজেলার প্রায় ছয়টি এলাকায় চলছে এই তাণ্ডব। পাকা ধান ঘরে তোলার সময় এ ভোগান্তিতে ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। এ অবস্থায় বুনো শূকর থেকে ফসল বাঁচানোর জন্য রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা।
কৃষকেরা অভিযোগ করে জানান, লংগুরপার, দক্ষিণ বালিগাঁও, বাঘমারা, সরইবাড়ি, ভেড়াছড়া, ছাতকছড়া এলাকার ফসলি জমিতে লাউয়াছড়া বনের বুনো শূকর প্রতি রাতে হানা দেয়। আমন পাকা ধান ও শীতকালীন সবজিখেতে শূকরের দল এসে তা নষ্ট করে। ধান, আলু, মুলা এমনকি কলাগাছসহ বিভিন্ন গাছ উপড়ে ফেলে।

এদিকে শূকর তাড়ানোর চেষ্টা করলে উল্টো মানুষকে ধাওয়া করে। সারা দিন কাজ করে আবার রাত জেগে ফসল পাহারা দিতে হয়। কৃষকেরা বুনো শূকরের হানায় ফসল মাঠে রাখতে পারছেন না।

শীতের মধ্যে পাকা ধান রক্ষায় মাঠে বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে পাহারা দেন কৃষকেরা। সঙ্গে রাখেন প্লাস্টিক ও টিনের তৈরি ড্রাম। কিছুক্ষণ পর শব্দ করে চিৎকার করেন, যাতে শূকর চলে যায়। কৃষক জাহির মিয়া ফসলি মাঠে বাঁশ দিয়ে ৪ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট মাচা তৈরি করে রাতে বসে থাকেন শূকর তাড়ানোর জন্য।
জাহির মিয়া বলেন, ‘শূকর আমাদের সব ফসল নষ্ট করে ফেলছে। এ অবস্থায় প্লাস্টিক ও টিনের ড্রামের শব্দ করে রাত জেগে ফসল পাহারা দিতে হয়। এসব শূকর মানুষকেও আক্রমণ করে। এ কারণে ৪ ফুট উঁচুতে বাঁশের মাচা তৈরি করেছি, যাতে বন্য শূকর আক্রমণ করতে না পারে।’
এভাবে মাচা তৈরি করে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন কৃষক মুরাজ মিয়া, আবুল হোসেন, কৈইনুর, দুলাল মিয়া। ফসল কাটার আগ পর্যন্ত চলবে তাঁদের পাহারা দেওয়ার কাজ। তবে বুনো শূকরের আক্রমণ ঠেকাতে এখন পর্যন্ত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে দাবি করেন কৃষকেরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি কমলগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, বন উজাড় ও বনভূমি বেদখল হওয়ার কারণে এখন বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। আগে বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে হানা দেয়নি, মানুষের কোনো ক্ষতি করেনি। লাউয়াছড়ার বেদখল বনভূমি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণীদের জন্য বনজ গাছ লাগানোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বন্যপ্রাণীর নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নেই। বন্যপ্রাণীরা খাবারের জন্য লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে বুনো শূকর ধান খেতে পছন্দ করে, মূলত পাকা ধান খাওয়ার জন্য ফসলের মাঠে হানা দিচ্ছে শূকরের দল।
শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বুনো শূকরের বংশবিস্তার আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। শূকরের দলের বনের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বিচরণ করা স্বাভাবিক বিষয় হলেও ফসল নষ্ট হওয়ায় ঘটনা দুঃখজনক।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Check Also

কমলগঞ্জে মণিপুরী নৃত্য দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও নৃত্যানুষ্ঠান-কমলগঞ্জ বার্তা

কমলগঞ্জ বার্তা ডেস্ক, রিপোর্ট ॥ মণিপুরী নৃত্য দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপজেলার বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজকল্যাণ পরিষদেও ...